এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রকল্পে ৯০ হাজার এমএসএমই উদ্যোক্তাকে সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ

ঢাকায় আজ বুধবার ‘সাইবাররেডি: সেলিব্রেটিং দ্য জার্নি অব সাইবার-সেফ এমএসএমই’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ, ডিজিটাল ইকোনমি প্রোগ্রামের জ্যেষ্ঠ পরিচালক অ্যান্থিয়া মুলাকালা ও জ্যেষ্ঠ কর্মসূচি ব্যবস্থাপক ইজলাল হোসেন এবং সাজেদা ফাউন্ডেশনের ডেপুটি সিইও ফজলুল হক ও জ্যেষ্ঠ পরিচালক মো. নোমানুজ্জামানসহ অন্যরাছবি: সাজেদা ফাউন্ডেশন।
প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন

সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করেছে এশিয়া ফাউন্ডেশন ও সাজেদা ফাউন্ডেশন। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত কর্মসূচিটির আওতায় ৯০ হাজারের বেশি উদ্যোক্তাকে সাইবার হাইজিন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকায় আজ বুধবার ‘সাইবাররেডি: সেলিব্রেটিং দ্য জার্নি অব সাইবার-সেফ এমএসএমই’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বক্তারা বলেন, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান (এমএসএমই) ক্রমেই ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। সাইবার হামলা, ফিশিং ও প্রতারণামূলক লেনদেনের কারণে ছোট ব্যবসায়ের আয় কমতে পারে, গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে, এমনকি ব্যবসা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। তাই সাইবার নিরাপত্তাকে শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না; এটি এখন অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।

‘এপ্যাক সাইবার সিকিউরিটি ফান্ড’ শীর্ষক একটি প্রকল্পের সমাপনী উপলক্ষে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। সার্চ ইঞ্জিন গুগলের জনহিতৈষী সংস্থা গুগল ডট ওআরজির আর্থিক সহায়তায় এশিয়া ফাউন্ডেশন এপ্যাক সাইবার সিকিউরিটি ফান্ড পরিচালনা করছে। প্রকল্পটির স্থানীয় অংশীদার হলো সাজেদা ফাউন্ডেশন। তারাই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে।

অনুষ্ঠানে এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ বলেন, বাস্তব জীবনের মতো ডিজিটাল জগতেও প্রতারণা ও শোষণ থেকে সুরক্ষা প্রয়োজন।

এশিয়া ফাউন্ডেশনের ডিজিটাল ইকোনমি প্রোগ্রামের জ্যেষ্ঠ পরিচালক অ্যান্থিয়া মুলাকালা বলেন, সাইবার হাইজিন মানুষের জীবিকা রক্ষা, নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর আস্থা বাড়ানোয় ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশে প্রকল্পটির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

সাইবার হাইজিন হলো সাইবার হুমকি থেকে ডিজিটাল ডিভাইস, নেটওয়ার্ক ও সংবেদনশীল তথ্য-উপাত্ত নিরাপদ রাখার নিয়ম ও কার্যপদ্ধতি মেনে চলার চর্চা।

সাজেদা ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ পরিচালক মো. নোমানুজ্জামান এবং এশিয়া ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মসূচি ব্যবস্থাপক ইজলাল হোসেন জানান, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজে লাগানোয় কর্মসূচিটি কার্যকর হয়েছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁদের আগে থেকেই আস্থা ও বোঝাপড়া থাকায় প্রশিক্ষণের জ্ঞান সহজে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশে এমএসএমইর জন্য সাইবার-সহনশীল ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা হয়। এতে ইনস্পিরা অ্যাডভাইজরি অ্যান্ড কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুনতাসির তাহমিদ চৌধুরী বলেন, সাইবার অপরাধ এখন বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছোট ব্যবসার জন্যও বড় হুমকি। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা, কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সহযোগিতা জরুরি।

সাজেদা ফাউন্ডেশনের ডেপুটি সিইও ফজলুল হক বলেন, অনেক উদ্যোক্তা পাসওয়ার্ড, অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ও অনলাইন ঝুঁকি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়াই ডিজিটাল সেবা নিচ্ছেন। এ ছাড়া প্রতারকেরা নিয়মিত কৌশল বদলানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাইবার নিরাপত্তা চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মো. খাইরুল আনাম এবং এশিয়া ফাউন্ডেশনের ডিজিটাল স্কিলসবিষয়ক পরিচালক নাদিয়া সুব্রামানিয়াম।