ওই গবেষণায় ওয়াসেল বিন সাদাত দেখিয়েছেন যে ধনী কিংবা গরিব মানুষ তাঁদের খরচের কত শতাংশ কোন পণ্যে খরচ করে থাকেন। সেখানে দেখা গেছে, অতি গরিব শ্রেণির একজন মানুষ তাঁর ব্যয়ের ৩২ শতাংশ খরচ করেন চাল কিনতে। গরিব মানুষের ক্ষেত্রে এই হার ২৯ শতাংশ। এ ছাড়া গরিব নন, এমন ব্যক্তি তাঁর ব্যয়ের এক-পঞ্চমাংশ চাল কেনায় খরচ করেন।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, অতি গরিবেরা ফলমূল কেনায় সবচেয়ে কম খরচ করেন। ফলমূল কেনায় তাঁদের ব্যয়ের মাত্র ৩ শতাংশ অর্থ খরচ হয়। মাছ কেনায় খরচ করেন মাত্র ১৫ শতাংশ। মাংস কেনায় খরচ করেন মাত্র ৯ শতাংশ। আর শাকসবজি কেনায় গরিব মানুষের খরচ ১১ শতাংশ।

২০১৬ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপের তথ্য-উপাত্ত ধরে ওয়াসেল বিন সাদাত দেখিয়েছেন, ২০১৬ সালে একটি পরিবারের ব্যয়ের ৪৭ শতাংশের মতো খরচ হতো খাবার কিনতে। এর ১০ বছর আগে এই হার ছিল প্রায় ৫৪ শতাংশ।

গবেষণাটি সমসাময়িক সংকটের সময়েও প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক বিনায়ক সেন। তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। গবেষণার মডেল ব্যবহার করে মানুষের ভোগ কত বাড়ল কিংবা কমল, তা বের করা সম্ভব।

চালের দাম বাড়লে বেশি দুর্ভোগ

সেমিনারে বলা হয়, চালের দাম বাড়লেই সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ হয়। গবেষণায় দেখানো হয়েছে, চালের দাম বাড়লে মানুষ মাছ-মাংস, ডাল, ফলমূল খাওয়া কমিয়ে দেন। তখন শাকসবজিতে বেশি নির্ভরশীল হন। ডালের দাম বাড়লে মাছ কেনা কমিয়ে দেন। তখন চাল ও শাকসবজিতে খরচ বাড়ে। মাছের দাম বাড়লে চাল, মাংস, শাকসবজি খাওয়া কমে যায়। মাংসের দাম বাড়লে অন্য সব পণ্যের ভোগ কমিয়ে দেন।

কোভিডের সময় জিনিসপত্রের দাম ও আয়ে কী প্রভাব পড়েছে, তার ওপরও একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয় সেমিনারে। বলা হয়েছে, করোনার সময় প্রথম লকডাউন ঘোষণা দেওয়ার পর জিনিসপত্রের দাম ১১ শতাংশ বেড়েছিল।

তখন মানুষের আয় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। অন্যদিকে প্রথম লকডাউন শেষে জিনিসপত্রের দাম ২০ শতাংশ বেড়ে যায়। তখন মানুষের আয় ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত কম ছিল। তবে দ্বিতীয়বার যখন লকডাউন দেওয়া হয়, তখন জিনিসপত্রের দাম ১৬ শতাংশ বাড়তি ছিল। তখন মানুষের আয় কোভিডের আগের পর্যায় থেকে মাত্র ৪ শতাংশ কম ছিল।

বিনায়ক সেন আরও বলেন, গরিব মানুষের ভোগ তালিকায় এমনিতেই মাছ-মাংস, ডিম, ফলমূলের অংশ কম। যখন জিনিসপত্রের দাম বাড়ে, তখন এসব পণ্যের ভোগের অংশ আরও কমে যায়।