অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বিশ্বের উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে ব্যক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জিআরআই দেওয়া বাধ্যতামূলকভাবে পরিপালন করতে হবে। কারণ, পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ছাড়া পৃথিবী বাঁচানো যাবে না।

সাবের চৌধুরী আরও বলেন, ‘বর্তমানে পৃথিবীতে ১২ মাসে যে পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করা উচিত, তা সাত মাসে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে দ্রুত আমাদের সম্পদ ধ্বংস হয়ে পৃথিবী ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা পণ্য উৎপাদনের সময় পানি, বাতাস ও মাটির মতো প্রাকৃতিক সম্পদকে ব্যবহার করে তা বর্জ্য হিসেবে প্রকৃতিতে ফেলে দিই। ফলে একদিকে সম্পদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, আরেক দিকে যতটুকু আছে, তা-ও ধ্বংস হচ্ছে।’

সঞ্চালকের বক্তব্যে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মতো প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি খাতের টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক দায়িত্ব পালনবিষয়ক প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। কিন্তু যারা এসব প্রতিবেদন গ্রহণ করছে, তাদেরও একইভাবে টেকসইবিষয়ক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। আর জিআরআই প্রতিবেদন জমা দেওয়াকে বাধ্যতামূলক করা এবং এ বিষয়ে একটি আইন প্রণয়নের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

মূল প্রবন্ধে তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, জিআরআই জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় নিচের সারিতে আছে। যে ৪৯টি প্রতিষ্ঠান ওই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তাদের ৩৫টি হচ্ছে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান। বাকিগুলোর মধ্যে চারটি উৎপাদন ও দুটি বস্ত্র খাতের প্রতিষ্ঠান। কোনো প্রতিবেদন জমা না দিয়ে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি খাত, অটোমোবাইল, তৈরি পোশাক ও রাসায়নিক শিল্প খাত।

যেসব ব্যক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান তাদের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করে, তার মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছে সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এই তথ্য উল্লেখ করে তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, এরপরই রয়েছে ওষুধ খাত, প্রকৌশল, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও টেলিকম খাত। তথ্য উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে দেশের সবচেয়ে বেশি পরিবেশদূষণকারী ট্যানারি খাত। এরপরই রয়েছে বস্ত্র, কাগজ কারখানা ও প্রিন্টিং খাত।

অনুষ্ঠানে ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাভেদ আখতার বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান ২০১০ সাল থেকে বৈশ্বিকভাবে ও গত বছর থেকে বাংলাদেশ থেকে জিআরআই প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। একই সঙ্গে আমাদের পণ্যগুলো টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। মানুষকে সচেতন করছে।’

নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানা স্থাপন করলেও সরকার বা আমাদের ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এ জন্য কোনো প্রণোদনা পাইনি। তবে আমরা দেশের পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে এ ধরনের কারখানা সংখ্যা বাড়িয়ে যাচ্ছি।’

প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএনের এ-দেশীয় প্রধান রাকিবুল আমিন বলেন, পরিবেশ সুরক্ষাকে ব্যবসা এবং শিল্পের মূল পরিকল্পনার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। এ জন্য দেশের সব আর্থিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে জিআরআই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী করতে হবে।