৪ অক্টোবর ইআরডির পক্ষ থেকে সব মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে কোন কোন প্রকল্পে কীভাবে কত অর্থ কমানো হবে, তার নির্দেশিকা দেওয়া হয়। আগামী ১৩ নভেম্বরের মধ্যে তা জানাতে বলা হয়। এ ছাড়া ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংশোধিত এডিপির বিদেশি সহায়তার পরিমাণ চূড়ান্ত করা হবে।

* গত বছর এডিপির ১৯ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। আর বাস্তবায়ন হয়েছিল এডিপির প্রায় ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। * জুলাই-সেপ্টেম্বর হিসাবে গত এক বছরের ব্যবধানে ২০ শতাংশের মতো খরচ বেশি হয়েছে।

সাধারণত, ডিসেম্বর মাসে এডিপি সংশোধনের কাজ শুরু হয়। প্রথমে বিদেশি সহায়তার পরিমাণ কাটছাঁট করা হয়। এ প্রক্রিয়া সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে শেষ হয়। এরপর দেশজ উৎসের অর্থ বরাদ্দ সংশোধন করা হয়। এবার অর্থনৈতিক চাপের কারণে একটু আগেভাগেই কাজ শুরু হলো। এ ছাড়া রাজস্ব আদায় পরিস্থিতিও খুব শক্তিশালী অবস্থায় নেই।

সংশোধিত এডিপিতে বিদেশি সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দে বেশ কয়েকটি নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো অর্থবছরের বাকি সময়ে একটি প্রকল্পে যুক্তিসংগত ও সম্ভাব্য খরচ বিবেচনায় সংশোধিত এডিপিতে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করতে হবে।

শুধু অনুমোদিত প্রকল্পগুলো সংশোধিত এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। নতুন অনুমোদিত প্রকল্প অনুমোদন আদেশ ও প্রশাসনিক আদেশ জারি ছাড়া সংশোধিত এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। চলতি অর্থবছরে সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত প্রকল্পে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে ধীরগতিসম্পন্ন প্রকল্প অথবা অন্য প্রকল্প থেকে অর্থ আনা যেতে পারে।

এদিকে এডিপি বাস্তবায়ন পরিস্থিতি গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের হিসাবে প্রায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছে। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ২৪ হাজার ১৪৭ কোটি।

সরকার যখন কৃচ্ছ্রসাধনের চেষ্টা করছে, তখন আগের বছরের প্রথম তিন মাসের চেয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা বেশি ব্যয় করা হয়েছে। গত বছর একই সময়ে এডিপির ১৯ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। আর বাস্তবায়ন হয়েছিল এডিপির প্রায় ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। জুলাই-সেপ্টেম্বর হিসাবে গত এক বছরের ব্যবধানে ২০ শতাংশের মতো খরচ বেশি হয়েছে।