পোশাক, গয়না ও সুগন্ধির জমজমাট ঈদ মেলা চলছে ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে
ঈদ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৫৬ জন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে নিয়ে তিন দিনের ঈদ মেলা শুরু হয়েছে ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে। তাঁদের বেশির ভাগই নারী উদ্যোক্তা।
দেশি পণ্য ও নকশার শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি-ফতুয়া, মেয়েদের জামাসহ সাধারণের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি পাট ও চামড়াজাত পণ্য, গয়না ও সুগন্ধি বিক্রি করা হচ্ছে। দেশি নকশা ও কাপড়ের ক্রেতারা মেলায় ভিড় করছেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মাইডাসের আয়োজনে শুরু হওয়া মেলার উদ্বোধন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন মাইডাসের চেয়ারম্যান পারভীন মাহমুদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম খাইরুল বাশার। মেলার উদ্যোক্তারাও এতে অংশগ্রহণ করেন। মেলা চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত এ মেলা।
দেশি পণ্যের এমন মেলায় ভিড় করছেন ক্রেতারা। মূলত হাতের কাজ ও স্থানীয় নকশা যাঁদের পছন্দ, তাঁরাই নতুন ডিজাইন দেখতে এসেছেন। কলাবাগান থেকে মেলায় এসেছেন সমাপ্তি নামের এক গৃহিণী। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘দেশি পণ্যের সমাহার পাওয়া যায় মেলায়। ঈদে এসব পণ্যের ডিজাইন দেখার জন্য এসেছি। সমাহার ভালো, তবে জামদানি একটু কম দেখছি, বুটিক কাপড় বেশি।’
২০২১ সাল থেকে হাতে তৈরি বিভিন্ন কাপড় তৈরি করছে স্বপ্নীল হাউস। তাঁত, খাদি ও রাজশাহী সিল্কের কাপড় দিয়ে তারা ব্লেজার, কোট, কটি ও মেয়েদের জামা তৈরি করে। ৭০০ থেকে ২০ হাজার টাকার শাড়ি রয়েছে তাদের। শাড়িতে হাতের কাজ ও নিজস্ব নকশায় কাজ করেন শারমিন সুলতানা। তা ছাড়া কোর্টে নকশা করে তা রপ্তানিও করছেন তিনি।
অনলাইনে বিক্রি ছাড়াও রপ্তানি করছেন সৌদি আরব, চীন ও যুক্তরাজ্যে। অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য বিক্রি করছেন আত্মীয়ের মাধ্যমে। দেশি পণ্য কেনায় এখনো মানুষের আগ্রহ কম বলে জানান শারমিন সুলতানা। আর যুক্তরাজ্যের কিছু ক্রেতা কাপড়ের ক্ষেত্রেও হালাল সার্টিফিকেট চান, যা দেশে নেই। এটাকে রপ্তানির চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সাবেক ব্যাংকার এ উদ্যোক্তা।
বুটিকের বিভিন্ন পাঞ্জাবি-ফতুয়া ও থ্রি-পিস নিয়ে হাজির হয়েছে লিজা বুটক্স। ১৯৯৭ সাল থেকেই এ ব্যবসায় রয়েছেন এলিজা পারভীন। ভারত থেকে নকশার ওপর কোর্স করা এ উদ্যোক্তার নিজস্ব শোরুম রয়েছে ধানমন্ডিতে। উপকরণের দাম বাড়লেও এখন মানুষ সস্তায় কাপড় কিনতে চায়, এটাকে একটা চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন এ উদ্যোক্তা।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্যও পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির একটি বড় সুযোগ নিয়ে আসে এসব মেলা। বিভিন্ন পাটপণ্য নিয়ে মেলা হাজির হয়েছেন আয়মান’স ক্রিয়েশন। হোগলা পাতা, পাট, বাঁশ দিয়ে পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে বিক্রি হচ্ছে এখানে। করোনার সময় মাত্র ২০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করলেও এখন আয়মান’স ক্রিয়েশনের ৩ লাখ টাকার বেশি পণ্য রয়েছে, মাসে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার পণ্য। পাটের ব্যাগ পাওয়া যাবে ৩০০ টাকায়। ফ্লোরম্যাট বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়।
হাতে তৈরি গয়নায় আগ্রহ
হাতে তৈরি গয়না নিয়ে এসেছেন বেশ কয়েকজন উদ্যোক্তা। এসব দোকানে কাঠ ও মাটির চুড়ি, আংটি, কানের দুল, নাকের নথ এবং গলার মালা ও ব্রেসলেট পাওয়া যাচ্ছে। উত্তরায় নিজের বাসায় গয়না তৈরি করছেন ট্রেন্ড অ্যান্ড ট্রেডিশনের উদ্যোক্তা।
প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা ইমিনা সৃষ্টি জানান, কাঠ ও মাটির প্রলেপ দিয়ে এসব চুড়ি রং করা হয়। চারুকলা থেকে পাস করা তাঁর বোন এ কাজ করে থাকেন। কাঠের চুড়ি তৈরি করেন তিনি নিজেই। কিছু উপকরণ চীন ও ভারত থেকে আনা হয়। গত মাসে তিন দিনের এক মেলায় লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি। তবে কাঁচামাল সংগ্রহ করাই বড় চ্যালেঞ্জ।
স্থানীয়ভাবে তৈরি সুগন্ধি
ফ্রান্স থেকে সুগন্ধি নিয়ে এসে তাতে নানা মিশ্রণ যুক্ত করে দেশেই সুগন্ধি তৈরি করছে মোরাক্কাজ ব্র্যান্ড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াস হোসেন আগে সৌদি আরবে সুগন্ধি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। এখনো মাঝেমধ্যে দেশটির বিভিন্ন মেলায় তিনি যান। সেই অভিজ্ঞতায় তিনি দেশে ছোট পরিসরে সুগন্ধি তৈরি করছেন। ছোট পরিসরে অনলাইনে এবং বিভিন্ন ক্যাম্পাসে মেলায় এসব সুগন্ধি বিক্রি করা হয়।
একইভাবে মাসে ১৫ দিন কাজ করে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার সুগন্ধি বিক্রি করছে আজান পারফিউম। মূলত ৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এসব সুগন্ধি বেশি বিক্রি হয়। এসব পারফিউম পাওয়া যায় ১০০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকায়। ৩ মিলির এসব ছোট বোতল খুব জনপ্রিয়। ৮০টির বেশি পারফিউম রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের।