ব্যবসায়ীর গভর্নর হওয়া যখন বিরল ঘটনা

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানছবি: সংগৃহীত

একজন কানাডার নাগরিককে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দিয়ে চমকে দিয়েছিল ইংল্যান্ড। ২০১৩ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর ছিলেন মার্ক কার্নি। এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১৩ সময় পর্যন্ত তিনি ছিলেন ব্যাংক অব কানাডার (কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংক) গভর্নর। ২০০৭-০৮ সময়ের বিশ্বমন্দা থেকে কানাডাকে সফলভাবে রক্ষা করেছেন বলে মার্ক কার্নির খ্যাতি ছিল। এ কারণেই ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর পদে নিয়োগ দেয়। একই ব্যক্তির দুই দেশের গভর্নর হওয়া ইতিহাসে আর নেই। সেই মার্ক কার্নি এখন কানাডার প্রধানমন্ত্রী।

ইংল্যান্ড বা কানাডা অত্যন্ত প্রভাবশালী দেশ। ফলে মার্ক কার্নির নিয়োগ নিয়ে সে সময় তুমুল আলোচনা হয়েছিল। বাংলাদেশ সে তুলনায় ছোট অর্থনীতির দেশ। এ কারণে হয়তো বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা কমই হবে। তবে নিঃসন্দেহে বলা যায়, নতুন গভর্নর নিয়োগ নিয়ে দেশের ভেতরেই বড় ধরনের চমক দিয়েছে নতুন বিএনপি সরকার। নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান পোশাক ও রিয়েল এস্টেট খাতের একজন ব্যবসায়ী। এর আগে বাংলাদেশে কখনোই কোনো ব্যবসায়ীকে গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এমনকি বিশ্বে একজন আপাদমস্তক ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের উদাহরণও বিরল।

বাংলাদেশ সে তুলনায় ছোট অর্থনীতির দেশ। এ কারণে হয়তো বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা কমই হবে। তবে নিঃসন্দেহে বলা যায়, নতুন গভর্নর নিয়োগ নিয়ে দেশের ভেতরেই বড় ধরনের চমক দিয়েছে নতুন বিএনপি সরকার।

নীতিমালায় যা আছে

শওকত হোসেন
ছবি: প্রথম আলো

এমন নয় যে আইন বা নীতিমালা অনুযায়ী একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর নিয়োগ দেওয়া যাবে না। আসলে গভর্নর কাকে নিয়োগ দেওয়া যাবে এ নিয়ে আইনে তেমন কিছু বলাই নেই। বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালিত হয় বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী। এখানে বলা আছে, সরকার গভর্নর পদে নিয়োগ দেবে এবং এর মেয়াদ হবে চার বছর। সরকার চাইলে মেয়াদ বাড়াতে পারবে। আগে গভর্নরের বয়সসীমা নির্ধারিত ছিল ৬৭ বছর। ২০২৪ সালে আহসান এইচ মনসুরকে গভর্নর নিয়োগ দেওয়ার সময় বয়সসীমাও তুলে নেওয়া হয়। নির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই বলেই বাংলাদেশে গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের পছন্দই আসলে সব।

বেশির ভাগ দেশে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকলেও সবাই আন্তর্জাতিক অর্থ ব্যবস্থাপনা ও ব্যাংকিংয়ে অভিজ্ঞতা আছে, এমন ব্যক্তিকে বেছে নেয়। কোনো দেশই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদের জন্য রাজনৈতিক পরিচয় বা সমর্থনকে খুব বেশি গুরুত্ব দেয় না। দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকেই বিবেচনা করা হয়।

উন্নত দেশগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর নিয়োগের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে। যেমন কানাডার এ–সংক্রান্ত আইনে লেখা আছে যে গভর্নরের অবশ্যই আর্থিক বাজার ও অর্থনীতি নিয়ে সম্পূর্ণ ধারণা থাকতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা ও অর্থায়নব্যবস্থা নিয়েও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বেশির ভাগ দেশে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকলেও সবাই আন্তর্জাতিক অর্থ ব্যবস্থাপনা ও ব্যাংকিংয়ে অভিজ্ঞতা আছে, এমন ব্যক্তিকে বেছে নেয়। কোনো দেশই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদের জন্য রাজনৈতিক পরিচয় বা সমর্থনকে খুব বেশি গুরুত্ব দেয় না। দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকেই বিবেচনা করা হয়।

আরও পড়ুন

ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) বর্তমান গভর্নর শক্তিকান্ত দাস ইতিহাসের ছাত্র হলেও মূলত একজন আমলা ছিলেন। তিনি ভারতের অর্থসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর পুরোদস্তুর ব্যাংকার। তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকেই ৩১ বছর কাজ করেছেন। আগে ছিলেন ডেপুটি গভর্নর। সৌদি সেন্ট্রাল ব্যাংকেও কাজ করেছেন।

গভর্নরকে অবশ্যই অরাজনৈতিক হতে হয়। কারণ, গভর্নরের কাজ কেবল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ নয়, আর্থিক খাত নিরাপদ রাখাও অন্যতম দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের অভিজ্ঞতা মোটেই ভালো নয়।

শ্রীলঙ্কার গভর্নর নন্দলাল উইরাসিংহেও একজন অভিজ্ঞ ব্যাংকার। তিনি দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিনিয়র ডেপুটি গভর্নর ছিলেন। আইএমএফেও কাজ করেছেন। নেপালের গভর্নর বিশ্বনাথ পাউডেল একজন অর্থনীতিবিদ, অধ্যাপনা করেছেন, দেশটির পরিকল্পনা কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর একজন অর্থনীতিবিদ, দক্ষিণ কোরিয়ার গভর্নর হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করা একজন অর্থনীতিবিদ। সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান একজন আমলা।

আগে যাঁরা ছিলেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম গভর্নর ছিলেন আ ন ম হামিদুল্লাহ (১৯৭২-৭৪)। তিনি এর আগে পাকিস্তানের ইস্টার্ন ব্যাংকিং করপোরেশনের (পরে এটি উত্তরা ব্যাংক হয়েছে) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।

১৯৭৪ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকা গভর্নর এ কে নাজিরউদ্দীন আহমেদ ছিলেন স্টেট ব্যাংক পাকিস্তানের নির্বাহী পরিচালক, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অব পাকিস্তানের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) কাজ করেছেন।

১৯৭৬ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত টানা গভর্নর ছিলেন এম নূরুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম আমলা গভর্নর। তাঁর পরের গভর্নর ছিলেন আরেক আমলা শেগুফ্তা বখ্ত চৌধুরী (১৯৮৭-৯২)। এরপরে গভর্নর হন এম খোরশেদ আলম (১৯৯২-৯৬)। তিনিও সিএসপি ছিলেন, অর্থসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।

এরপরের গভর্নর লুৎফর রহমান সরকার (১৯৯৬-৯৮) ব্যাংকার ছিলেন। ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন (১৯৯৮-০১) অর্থনীতির শিক্ষক ছিলেন, আমলাও ছিলেন। অষ্টম গভর্নর ড. ফখরুদ্দীন আহমদও (২০০১-০৫) একাধারে অর্থনীতির শিক্ষক, আমলা ও বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন। ড. সালেহউদ্দিন আহমেদও (২০০৫-০৯) তাই। আতিউর রহমান (২০০৯-১৬) অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষক। এরপরের গভর্নর ফজলে কবির (২০১৬-২২) সাবেক আমলা, অর্থসচিব ছিলেন। ২০২২ সালে নিয়োগ পাওয়া আরেক আমলা আব্দুর রউফ তালুকদার মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। হাসিনা সরকারের পতনের পরে নীরবে বিদায় নেন। ২০২৪ সালে নতুন গভর্নর হন আইএমএফের সাবেক কর্মকর্তা আহসান এইচ মনসুর। আমলা ও অর্থনীতিবিদদের পালা শেষ করে এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এলেন একজন ব্যবসায়ী।

আরও পড়ুন

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কী কাজ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ভিশন ও মিশনের কথা উল্লেখ আছে। ভিশন হিসাবে বলা আছে, একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বাসযোগ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক গড়ে তোলা, যা টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মূল্য স্থিতিশীলতা, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও সবার জন্য উন্নয়ন নিশ্চিত করবে। ভালো নেতৃত্ব ও সুশাসনের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

আর বাংলাদেশ ব্যাংকের মিশন হচ্ছে কার্যকর, স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক নীতি গ্রহণের মাধ্যমে মুদ্রা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর শক্ত নজরদারি নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানকে আধুনিক ও দক্ষ করে তোলা। জনগণের আস্থা তৈরি করা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সহায়তা করা।

বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল দায়িত্ব হচ্ছে: ১. মুদ্রা ও ঋণনীতি ঠিক করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। ২. টাকার সরবরাহ এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, যাতে অর্থনীতি ভারসাম্যপূর্ণ ও সুস্থ থাকে। ৩. ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি করা, নিয়ম মানানো, পরিদর্শন করা এবং ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পুরো আর্থিক ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখা। ৪. লেনদেন যাতে নিরাপদ ও দ্রুত হয়, সে জন্য আধুনিক ও শক্তিশালী পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা ও পরিচালনা করা। ৫. সরকারকে আর্থিক ও অর্থনৈতিক নীতির বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া, যাতে প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও সংকট মোকাবিলায় সহায়তা পাওয়া যায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আসলে অনেক কাজ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব অর্থনীতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির অধ্যায় শুরু শুরু হয়েছিল ষাটের দশকের মাঝামাঝি থেকে, যা অব্যাহত ছিল ১৯৮২ সাল পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের চেয়ারম্যান পল ভলকার ওই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করেছিলেন অর্থনীতিকে। তখন নতুন প্রেসিডেন্ট ছিলেন রোনাল্ড রিগ্যান। আধুনিক অর্থনীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল ভূমিকা ঠিক হয়েছিল তখন থেকেই। তখন থেকেই বিশ্বে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কাজ কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরই। এ জন্য একটি কার্যকর মুদ্রানীতি প্রণয়ন করতে হয়। আর এ ক্ষেত্রে গভর্নরের ভূমিকাটিই প্রধান, বিশেষ করে তিনি কতটা স্বাধীনভাবে চলতে পারবেন, সেটিও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ রঘুরাম জি রাজন ভারতের ২৩তম গভর্নর ছিলেন। তিনি একজন গভর্নরের ভূমিকা নিয়ে লিখেছিলেন, ‘গভর্নর শুধু একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক নন, তার চেয়েও অনেক বেশি। যেহেতু কেন্দ্রীয় ব্যাংক একই সঙ্গে ঋণ গ্রহণের শেষ আশ্রয় এবং একই সঙ্গে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রহরী, সেই কারণে গভর্নর হলেন দেশের পুরো অর্থনীতির ঝুঁকি গ্রহণের প্রধান পরিচালক। তিনি যদি আন্তরিকভাবেই তাঁর দায়িত্ব পালন করেন, সে ক্ষেত্রে তিনি যদি আশঙ্কিত হন যে সামনে অর্থনীতির ভুল পথে যাওয়ার বিপদ রয়েছে, তাঁর উচিত হবে সতর্ক করে দেওয়া। যেহেতু তিনি একজন অরাজনৈতিক প্রযুক্তিবিদ, তিনি একদিকে যেমন সরকারের সব কাজেরই উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করবেন না বা উল্টো দিকে সবকিছুর সমালোচক হয়ে উঠবেন না। এটি খুব সূক্ষ্ম দড়ির ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া, যখন তিনি বক্তব্য রাখবেন তখন তাঁকে ভালো-মন্দ দুই দিকই দেখতে হবে এবং খুব সাবধানে তাঁর ভাষ্যের সুরটি বাঁধতে হবে।’

সারা বিশ্বেই কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীনতা দেওয়া হয়, আবার জবাবদিহির জায়গাটাও তৈরি করা আছে। বাংলাদেশে এর কোনোটাই নেই। এ ব্যবস্থাটি এখন করা দরকার।

সুতরাং গভর্নরকে অবশ্যই অরাজনৈতিক হতে হয়। কারণ, গভর্নরের কাজ কেবল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ নয়, আর্থিক খাত নিরাপদ রাখাও অন্যতম দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের অভিজ্ঞতা মোটেই ভালো নয়। প্রভাবশালী গোষ্ঠীর খেয়ালখুশি মতো চলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একের পর আর্থিক কেলেঙ্কারি ও ব্যাংক দখল হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা ছিল সহায়তাকারীর। এ রকম একটি অবস্থায় নতুন গভর্নর দায়িত্ব নিলেন। ঋণখেলাপি কেন হয়, কেন ব্যবসায়ীদের একটি অংশ ঋণ পরিশোধ করেন না, বিশেষ সুবিধার আশায় থাকেন—ব্যবসায়ী হিসাবে তিনিই তা ভালো জানবেন।

এ জন্য একদিকে যেমন দরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা, আরও দরকার জবাবদিহির জায়গা তৈরি করা। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডারের ৩৮এ ধারায় বলা আছে, গভর্নরকে অবশ্যই বছরে একবার অর্থ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে উপস্থিত হয়ে মুদ্রানীতি নিয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে হবে। আইনে ‘শ্যাল’ কথাটির উল্লেখ আছে, অর্থাৎ এটি অবশ্যই পালনীয়। এই কাজ অতীতে কখনোই হয়নি। সারা বিশ্বেই কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীনতা দেওয়া হয়, আবার জবাবদিহির জায়গাটাও তৈরি করা আছে। বাংলাদেশে এর কোনোটাই নেই। এ ব্যবস্থাটি এখন করা দরকার।