ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে রূপপুরের খরচ বেড়েছে ২৬ হাজার কোটি টাকা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রফাইল ছবি

ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের খরচ টাকার অঙ্কে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। তবে ডলারের হিসাবে কোনো খরচ বাড়েনি। এখন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের খরচ বেড়ে দাঁড়াল ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকায়।

এর পাশাপাশি প্রকল্পের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন তা বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত করা হয়েছে।

আজ রোববার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প সংশোধন করা হয়।

শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলনেকেন্দ্রে এ সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়ার ঋণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ডলারের দামে প্রকল্পের মূল্য একদম ঠিক আছে, টাকার হিসাবে বেড়েছে। ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত ডলারের দাম বেশ বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়ার ঋণ পরিশোধে ঝামেলা হয়। এটি আমাদের দিকের সমস্যা নয়। এ ছাড়া কোভিডসহ নানা কারণে রাশিয়ার আগ্রহে প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাশিয়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ১১ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে। ২০১৫ সালে যখন এই ঋণচুক্তি হয়, তখন প্রতি ডলারের দাম ছিল ৮০ টাকা। এখন ডলারের দাম বেড়ে ১২২ টাকা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ডলারের দাম বেড়েছে ৪২ টাকা। তাই টাকার অঙ্কে প্রকল্পের মূল্য বাড়ানো হয়েছে, ডলারে ঠিক আছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পাবনার রূপপুরে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের হিসাব অনুসারে, রাশিয়ার ঋণের পরিমাণ টাকার অঙ্কে বেড়েছে ২৫ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা। এখন রাশিয়া যত ডলার দেবে, তাতে টাকার অঙ্ক দাঁড়াবে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে দেশীয় উৎসের খরচ কমানো হয়েছে ১৬৬ কোটি টাকা। এখন দেশীয় উৎস থেকে দেওয়া হবে ২১ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা।

প্রকল্প শেষ করতে না পারলে অর্থছাড় বন্ধ

একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা আরও বলেন, আগামী জুন বা ডিসেম্বরের মধ্যে যেসব প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা, নির্ধারিত সময়ে ওই সব প্রকল্প শেষ করতে না পারলে অর্থছাড় বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমন চিঠি মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এমন চিঠি যাবে মন্ত্রণালয়ে।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা আরও বলেন, একনেকে নীলফামারীতে একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এ হাসপাতাল হলে পার্শ্ববর্তী দেশের ওই এলাকার লোকজনও চিকিৎসা নিতে আসবেন। কারণ, পাশ্ববর্তী দেশের ওই সব এলাকায় ভালো হাসপাতাল নেই।

নির্বাচনের আগে শেষ একনেক সভা

নির্বাচনের আগে আজকের একনেক সভাই শেষ, এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক সরকার নির্বাচনের আগে বেশি প্রকল্প পাস করে। কিন্তু আমরা তা নই। আজকে বেশি প্রকল্প একনেকে ওঠার কারণ হলো, নির্ধারিত বিরতিতে দুটি একনেক সভা হয়নি। তাই প্রকল্প বেশি উঠেছে। তবে নির্বাচনের আগে আর একনেক সভা করা সমীচীন কি না, তা পর্যালোচনা হচ্ছে। তবে জাতীয় প্রয়োজনে হতে পারে।

২৫ প্রকল্প পাস

আজকের একনেক সভায় সব মিলিয়ে ২৫টি প্রকল্প পাস হয়েছে। এতে খরচ হবে প্রায় ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। এতে সরকার নিজস্ব উৎস থেকে দেবে ১০ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা। বিদেশি সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে ৩২ হাজার ১৮ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা দেবে ২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা।