বিশ্ব অর্থনীতিতে আরেকটি নেতিবাচক লক্ষণ হলো, জাপান সরকার দেশীয় জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস শিগগিরই কমিয়ে আনতে যাচ্ছে। পাশাপাশি চীনের অর্থনীতি এখনো ম্লথ। কোভিডজনিত লকডাউন এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি।

ঋণমান নির্ণয়কারী সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের ইউএস কম্পোজিট পিএমআই আউটলুক ইনডেক্স জুনের ৫২ দশমিক ৩ পয়েন্টের তুলনায় চলতি মাসে ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে। এ হার অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের চেয়েও কম। এ নিয়ে মাসভিত্তিক হিসাবে টানা চতুর্থ মাসের মতো এ সূচক নিম্নমুখী। মূলত পরিষেবা খাতের দুর্বলতার কারণে উৎপাদন খাতে কিছুটা প্রবৃদ্ধি হলেও সামগ্রিকভাবে তা সংকুচিত হয়েছে। পিএমআই সূচক ৫০ পয়েন্টের নিচে নামার অর্থ হলো, ওই খাতের কার্যক্রম সংকোচন এবং এর ওপরে যাওয়ার অর্থ হলো, প্রসারিত হওয়া।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের প্রধান ব্যবসায়িক অর্থনীতিবিদ ক্রিস উইলিয়ামসন এক বিবৃতিতে বলেন, জুলাইয়ের প্রাথমিক পিএমআইয়ে দেখা যায়, অর্থনীতির চিত্র উদ্বেগজনক। পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। কোভিডজনিত লকডাউনে থাকা মাসগুলো বাদ দিলে ২০০৯ সালে বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পরে এমন হারে উৎপাদন কমার চিত্র দেখা যায়নি।

ইউরো অঞ্চলে উৎপাদন খাতে মন্দা এবং পরিষেবা খাতের প্রবৃদ্ধিতে প্রায় স্থবিরতার কারণে চলতি মাসে সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম সংকুচিত হয়েছে। জরিপ অনুসারে, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার খরচ গ্রাহকদের ব্যয় কমাতে প্ররোচিত করেছে।

সম্প্রতি ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৭১টি কোম্পানির ওপর পরিচালিত সমীক্ষার ভিত্তিতে বলেছে, সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির দৃষ্টিভঙ্গি ক্রমেই অপরিষ্কার হয়ে উঠছে। কারণ হিসেবে ইউরো অঞ্চলজুড়ে ব্যবসাগুলো ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপ এবং মজুরি বৃদ্ধির সম্মুখীন হওয়ার কথা জানিয়েছে।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন