শীত জেঁকে বসেছে দেশে। এতে মানুষের মতো ছোট মৌমাছিরও জবুথবু অবস্থা। শীতের মৌসুমে শর্ষের ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌমাছি। তবে কুয়াশায় ফুল ভেজা থাকলে মৌমাছিও মধু সংগ্রহে বের হয় না। ফলে মধুচাষিরা বিপাকে পড়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, দেশে সবচেয়ে বেশি শর্ষে উৎপাদন হয় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়। গত তিন বছর ধরেই উপজেলা হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে আছে উল্লাপাড়া। মূলত চলন বিল এলাকায় এসব শর্ষে চাষ হয় বেশি। এবারও উপজেলার প্রায় ২৪ হাজার ৬০৫ হেক্টর জমিতে শর্ষে চাষ হয়েছে।
এসব শর্ষেখেত থেকে মধু সংগ্রহ করতে চাষিরা ভিড় করেন উপজেলায়। এবার ১২৭টি প্রতিষ্ঠান উল্লাপাড়া উপজেলা থেকে মধু সংগ্রহ করছে। কিন্তু কুয়াশায় মধু সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান চাষিরা।
আশার আলো ফুড প্রোডাক্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান উপজেলার বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নের আলী গ্রামে মধু সংগ্রহ করছে। প্রায় ১৫০ বাক্স মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহ করছে তারা। প্রতি বাক্সে ২০ থেকে ৫০ হাজার পর্যন্ত মৌমাছি থাকে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আবদুর রশিদ বলেন, প্রায় চার দশক ধরে মধু সংগ্রহ করছেন তিনি। এখন তিনি মধু সংগ্রহের প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন।
আবদুর রশিদ প্রথম আলোকে জানান, সপ্তাহে প্রায় ১০ মণ মধু সংগ্রহ করা হয়, যার দাম প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু কুয়াশার কারণে মৌমাছি বের হচ্ছে না। এমনকি বংশবৃদ্ধির কাজও বন্ধ থাকে। তীব্র শীতের কারণে মধু উৎপাদনের সঙ্গে মৌমাছি বিক্রি ব্যাহত হয়। এই পরিস্থিতিতে প্রতি বাক্স মৌমাছি বিক্রিতে ২ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে।
আবদুর রশিদ সাধারণত মধু ছাড়াও ১০ হাজার টাকায় এক বাক্স মৌমাছি বিক্রি করে থাকেন। প্রতিটি বাক্সে ১০টি ফ্রেম থাকে। পাঁচ ফ্রেমের বাক্সের দাম পড়ে সাড়ে ৫ হাজার টাকা। কিন্তু কুয়াশা থাকলে মৌমাছির বংশবৃদ্ধি কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এতে চাষিদের দুভাবেই লোকসান গুনতে হচ্ছে।
চাষিদের মধু সংগ্রহের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তা ছাড়া উপকরণ ও কীটনাশক ব্যবহারে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করে তারা। উল্লাপাড়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘উপজেলায় এ বছর ১২৭টি প্রতিষ্ঠানের মধু সংগ্রহের কথা আছে। এ মৌসুমে প্রায় ২ লাখ কেজি মধু সংগ্রহের আশা করছেন তিনি। এই মধুর বাজার মূল্য ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার মতো হবে। এ এলাকায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে মৌচাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
চাষিরা জানান, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই দুই মাসের মধ্যে শর্ষের ফুলের মধু সংগ্রহ করা হয়। তবে এবার কুয়াশা বেশি থাকায় চাষিরা চিন্তিত। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যে জানা গেছে, শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিরাজগঞ্জে। তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এ ছাড়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় শীতের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি অনুভূত হতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রে তা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে যাবে। ফলে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হতে পারে।