দিনে এক লাখ গ্রাহক নিচ্ছেন ‘ন্যানো’ ঋণ

ন্যানো ঋণসেবা

  • এখন পর্যন্ত ঋণ নিয়েছেন ৩৫ লাখ গ্রাহক।

  • ঋণগ্রহীতা গ্রাহকের ৬৩ শতাংশই শহরাঞ্চলের।

  • ঋণগ্রহীতাদের ৭৮ শতাংশ পুরুষ ও ২২ শতাংশ নারী।

  • মাসে ঋণ বিতরণ করা হয় গড়ে ৯০০ কোটি টাকা।

সিটি ব্যাংকের ডিজিটাল ন্যানো লোন বা ক্ষুদ্রঋণ দ্রুতই সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে। যেকোনো প্রয়োজনে নিজের স্মার্টফোনে বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে মাত্র কয়েক মিনিটেই কোনো ধরনের জামানত ছাড়া এই ঋণ নেওয়া যাচ্ছে। বিকাশ থেকে গত সাড়ে চার বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার ডিজিটাল ক্ষুদ্র ঋণ নিয়েছেন ৩৫ লাখ মানুষ।

সিটি ব্যাংক-বিকাশের উদ্যোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণের যাত্রা শুরু হয়। এই সেবা চালুর প্রথম বছরে ১০১ কোটি টাকার ঋণ নেন গ্রাহকেরা। দ্বিতীয় বছরে এসে ঋণ বিতরণ প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯৪ কোটি টাকায়। ২০২৪ সালে ৮৫৫ কোটি টাকার ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ নিয়েছেন গ্রাহকেরা। গত বছর সেই ঋণ প্রায় সাড়ে ৪ গুণ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকায়। আর চলতি বছরের ৯ জুলাই পর্যন্ত ৪ হাজার ৫৯১ কোটি টাকার ডিজিটাল ঋণ নিয়েছেন গ্রাহকেরা। সব মিলিয়ে গত সাড়ে চার বছরে সিটি ব্যাংক ও বিকাশের বিতরণ করা ন্যানো ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকার মাইলফলক ছাড়িয়েছে।

এ বিষয়ে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘দেশের ব্যাংকিং খাতে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ যখন বড় উদ্বেগের বিষয়, তখন দেখা যাচ্ছে ছোট অঙ্কের ডিজিটাল ঋণে পোর্টফোলিওর মান ঈর্ষণীয় পর্যায়ের। এই ঘটনা থেকে পুরো ব্যাংক খাতের শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা নেওয়ার মতো অনেক কিছু আছে।’

নতুন এই ঋণসেবা চালুর সাড়ে চার বছরে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা।

সিটি ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে ৩৫ লাখ গ্রাহক গত সাড়ে চার বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। মোট ৩ কোটি ১৯ লাখ ঋণ হিসাবে এসব ঋণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক গ্রাহক গড়ে এই স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিয়েছেন ৯ বারের বেশি। বর্তমানে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি বিকাশ গ্রাহকের জন্য এই ঋণ সুবিধা উন্মুক্ত রয়েছে।

সিটি ব্যাংক জানিয়েছে, প্রতিদিন প্রায় এক লাখ গ্রাহক বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে সিটি ব্যাংকের এই ক্ষুদ্রঋণ নিচ্ছেন। প্রতিটি ঋণের গড় পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার টাকা, আর মাসিক ঋণ বিতরণ পৌঁছেছে ৯০০ কোটি টাকায়। বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকেরা সিটি ব্যাংক থেকে তিন ধরনের ঋণ নিয়ে থাকেন। সেগুলো হচ্ছে নগদ ঋণ, পণ্য কিনতে ‘বাই নাও পে লেটার’ এবং মোবাইল রিচার্জে পে লেটার। তার মধ্যে নগদ ঋণই ৯৯ শতাংশ।

সিটি ব্যাংক জানিয়েছে, ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ নেওয়া গ্রাহকের মধ্যে ৬৩ শতাংশ শহরাঞ্চলের। বাকি ৩৩ শতাংশ গ্রামে বসবাস করেন। আবার ঋণগ্রহীতাদের ৭৮ শতাংশ পুরুষ ও ২২ শতাংশ নারী।

ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ খেলাপি হওয়ার হারও খুবই নগণ্য। মোট বিতরণ করা ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে খেলাপি ও অবলোপন করা ঋণের পরিমাণ মাত্র ৫৩ কোটি টাকা বা দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ বিতরণ করা ঋণের ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ নিয়মিতভাবে ব্যাংকে ফেরত এসেছে।

জানতে চাইলে বিকাশের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার আলী আহম্মেদ বলেন, অত‍্যাধুনিক প্রযুক্তি, বিকল্প তথ্যের ভিত্তিতে ঋণ মূল্যায়ন এবং দূরদর্শী ব্যাংকিং ও সুশাসনের সমন্বয়ে বিকাশ, সিটি ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে একটি কার্যকর ডিজিটাল ঋণ বিতরণ মডেল তৈরি করেছে। ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণের এই মাইলফলক লাখো গ্রাহকের কাছে স্বচ্ছতার সঙ্গে ডিজিটাল ঋণ পরিষেবা পৌঁছানোর এক সফলতার প্রমাণ।