কাঁচামালের চেয়ে প্রস্তুত পণ্যে শুল্ক বেশি হোক

কয়েক বছর ধরে সাধারণ মানুষের চরম উদ্বেগ ও ভোগান্তি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। তাই নতুন সরকারের নতুন বাজেট সামনে রেখে চাকরিজীবী থেকে শুরু করে শ্রমজীবীসহ সাধারণ মানুষ চান দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আসুক। ব্যবসায়ীরা চান ব্যবসার পরিবেশ সহজ হোক, শুল্ক–করের চাপ কমুক। তরুণেরা চান শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাত উন্নত হোক। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে গৃহিণী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার ছয়জনের বাজেট প্রত্যাশা নিয়ে এ আয়োজন।

আমিরুল হক

বাজেট ঘিরে ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রধান প্রত্যাশা থাকে শিল্পবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব নীতিসহায়তা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে কাঁচামাল ও প্রস্তুত পণ্যের আমদানি শুল্কের ব্যবধান খুব কম এবং কখনো প্রায় সমান থাকে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী দেশীয় শিল্প প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে কাঁচামালের তুলনায় প্রস্তুত পণ্যে শুল্ক–কর বেশি হওয়া উচিত।

বাজেট ঘোষণার আগে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবসা ও শিল্প খাতের জন্য বেশ কিছু ইতিবাচক নীতিসহায়তা দিয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিযোগ্য যেকোনো পণ্যের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা দেওয়া হবে। এ ধরনের উদ্যোগের জন্য অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর প্রশংসার দাবিদার।

এখন আমাদের প্রত্যাশা, সমুদ্রগামী পণ্য পরিবহন শিল্পেও একই ধরনের নীতিসহায়তা দেওয়া হোক। প্রতিবছর জাহাজভাড়া বাবদ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে। এই খাতে নীতিসহায়তা পেলে দেশীয় জাহাজের বহর বাড়বে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং নাবিকদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বিদেশ থেকে আয়ও বাড়বে। এটি এমন একটি খাত, যেখানে পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যেই বিনিয়োগের অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় ফিরে আসতে পারে। বাজেটে সরকারের এ ধরনের উদ্যোগের প্রতিফলন দেখতে চাই।

সরকার রাজস্ব আয় বাড়ানোর কথা বলছে; কিন্তু বাস্তবে যাঁরা কর দেন তাঁদের ওপরই বেশি চাপ তৈরি হচ্ছে। করের আওতা সম্প্রসারণ করা গেলে রাজস্ব আয় অনেক দ্রুত বাড়ানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সরকার চাইলে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সহযোগিতা নিতে পারে। এলাকাভিত্তিক বর্গফুটের ভিত্তিতে প্যাকেজ ভ্যাট চালু করা গেলে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

অপ্রদর্শিত অর্থ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে ফেরানোর জন্যও নীতিসহায়তা প্রয়োজন। আমাদের মত হলো, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনা প্রশ্নে শিল্প খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া উচিত। এতে একদিকে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে কয়েক বছরের মধ্যেই সরকার ওই বিনিয়োগ থেকে নিয়মিত রাজস্ব পাবে।

শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আমরা কথা বলে আসছি। অনেক ক্ষেত্রে এই কর সমন্বয়ের সুযোগ থাকে না। কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়করের (এআইটি) হার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখা উচিত। এর বেশি আদায় করা হলে তা ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন করের সঙ্গে সমন্বয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে।


আমিরুল হক, সভাপতি, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ