ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন কাল ভাতা পাবেন ৩৭,৫৬৭ জন
নারীপ্রধান পরিবারের নামে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পরিবারগুলোকে এ ভাতা দেওয়া হবে। ভাতা দেওয়া হবে উপকারভোগীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে। তাঁরা ঘরে বসেই ভাতা পাবেন।
আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ সোমবার বিকেলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সমাজকল্যাণ সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ প্রমুখ।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনে যে অঙ্গীকার ছিল, তার অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডের মতো একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা বহুদিন ধরে বলে আসছি, বাংলাদেশের অর্থনীতির সুফল সব মানুষের ঘরে পৌঁছাতে হবে, কিন্তু বাস্তবে সেটা করা সহজ নয়। দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা মাথায় রেখে বড় কোনো সামাজিক কর্মসূচি হাতে নেওয়াও সহজ নয়।’
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনীতিকরণ বা দলীয়করণ করা হয়নি বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, স্বচ্ছ ও স্বাধীন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
আপাতত ভাতা পাবেন ৩৭,৫৬৭ জন
আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলো হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
আগে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত হিসেবে চিহ্নিত ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য যাচাইয়ের পর ৪৭ হাজার ৭৭৭টি সঠিক পাওয়া গেছে বলে লিখিত বক্তব্যে জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী। তিনি জানান, একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা নিচ্ছেন, সরকারি চাকরি করছেন বা পেনশনভোগী আছেন ইত্যাদি বিবেচনায় চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
যেভাবে বাছাই করা হয়েছে
পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তার আগে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ওয়ার্ড কমিটির সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, ব্যবহৃত গৃহস্থালিসামগ্রী; অর্থাৎ টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মোবাইল, রেমিট্যান্স প্রবাহসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। এসব তথ্য পরে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হয়।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবারকে একটি আধুনিক স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে, যা হবে নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী। প্রতিটি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারের পাঁচজন সদস্য সুবিধা পাবেন। তবে যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারে সদস্যসংখ্যা পাঁচের বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
কারা ভাতা পাবেন না
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেলে সেগুলো বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা চলমান ভাতা নিতে পারবেন। কোনো পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হতে বেতন-ভাতা, অনুদান, পেনশন পেয়ে থাকলে, নারী পরিবারপ্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মচারী হিসেবে চাকরিরত থাকলে ওই পরিবার ভাতা পাওয়ার জন্য যোগ্য হবে না।
এ ছাড়া কোনো পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকলে বা বিলাসবহুল সম্পদ যেমন গাড়ি, এসি থাকলে বা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলেও ওই পরিবার ভাতা পাবে না।
প্রশ্নোত্তর পর্ব
আগামী জুনের পর ফ্যামিলি কার্ডের আওতা বাড়বে কি না, অর্থমন্ত্রীর কাছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘প্রকল্প শুরুই হবে জুনের পর। হতদরিদ্র দিয়ে আগে শুরু করছি। পরে পাওয়ার মতো যোগ্য সবাইকে এর আওতায় আনা হবে।’
আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী, জাসদ, বাসদ ইত্যাদি দলের অনুসারীরাও এ কার্ড পাওয়া থেকে বঞ্চিত থাকবেন না, এমন নিশ্চয়তা অর্থমন্ত্রী দিচ্ছেন কি না। আর হতদরিদ্র স্ত্রীহীন পুরুষপ্রধান পরিবার কেন ভাতা পাবে না, এমন প্রশ্নও করা হয় অর্থমন্ত্রীকে।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভাতাভোগী নির্বাচনে কোনো দল বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। আর পরীক্ষামূলক প্রকল্প শেষ হওয়ার পর হতদরিদ্র পুরুষপ্রধান পরিবারকেও ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।