কয়েক বছর ধরে রাজস্ব আদায়ে বেশ বড়সড় ঘাটতি হচ্ছে। তাই প্রতিবারের মতো আগামী বাজেটেও শুল্ক-কর আদায়ে মরিয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কারণ, বাজেটের বাড়তি খরচের জোগান দিতে হবে তাদের। একদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন বাস্তবায়ন শুরু হবে ১ জুলাই। অন্যদিকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার এক লাখ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে এক লাখ কোটি টাকা বাড়িয়ে আগামী অর্থবছরের জন্য এনবিআরকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের বিশাল লক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে। এই বিশাল লক্ষ্য অর্জনে এনবিআর বিভিন্ন ক্ষেত্রে শুল্ক-কর বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। ফলে সাধারণ মানুষের ওপর করের চাপ কিছু ক্ষেত্রে বাড়তে পারে।
ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের স্বস্তি দিতে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হচ্ছে। আবার ব্যাংক হিসাব খুলতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হতে পারে।
ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণে উদ্যোক্তাদের জন্য নানা খাতে করছাড়ও রাখা হতে পারে আগামী বাজেটে। তবে খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতার ওপর অগ্রিম কর বসতে পারে। বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর শুল্ক-কর কমবে। মূল্যস্তর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলে সিগারেটের দাম বাড়তে পারে।
এ ছাড়া নিয়মনীতিগুলো ব্যবসাবান্ধব করতে ‘ডি-রেগুলেশন’ নিয়ে বাজেট বক্তৃতায় একটি অনুচ্ছেদ রয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়। সেখানে ব্যবসার লাইসেন্স ও নবায়নের মেয়াদ পাঁচ বছর করা হতে পারে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ থেকে বাড়িয়ে পৌনে চার লাখ টাকায় উন্নীত করার ঘোষণা দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী। পরের দুই বছর করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা থাকবে—এমন ঘোষণাও থাকবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ প্রথম আলোকে বলেন, অর্থনীতি সচল রাখতে আগামী বাজেটে শুল্ক-কর প্রস্তাবগুলো ব্যবসাবান্ধব হওয়া উচিত। উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে সমাজের নিম্নস্তরে থাকা সাধারণ করদাতাদের স্বস্তি দিতে হবে। বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য যাতে চাঙা হয়, সে জন্য একদিকে শুল্ক-করে ছাড় দিতে হবে, অন্যদিকে কর দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা দরকার।
মোহাম্মদ আবদুল মজিদের মতে, এনবিআর নিজেই বাজেটের শুল্ক-কর প্রস্তাবগুলো তৈরি করে। যখন এসব প্রস্তাব তৈরি করা হয়, তখন বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য সামনে রেখে শুল্ক-করের হার কমানো বা বাড়ানো হয়। ছোটখাটো বিভিন্ন খাতে উৎসে কর বসিয়ে দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে এনবিআরের কর্মকর্তাদের যে স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা আছে, তা থেকে সরে আসতে হবে।
করমুক্ত আয়সীমা বাড়ছে
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ থেকে বাড়িয়ে পৌনে চার লাখ টাকায় উন্নীত করার ঘোষণা দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী। পরের দুই বছর করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা থাকবে—এমন ঘোষণাও থাকবে। ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত করমুক্ত আয়সীমার একটি রূপরেখা দেওয়া হতে পারে বাজেট বক্তৃতায়।
সাধারণ করদাতাদের পাশাপাশি নারী করদাতা ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী করদাতা, তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা ও প্রতিবন্ধী স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা, গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা করদাতা, গেজেটভুক্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর আহত জুলাই যোদ্ধা করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমাও বাড়বে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাতা-পিতা বা আইনানুগ অভিভাবকের প্রত্যেক সন্তান বা পোষ্যের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমাও বাড়বে।
আগামী অর্থবছর থেকে বছরজুড়েই রিটার্ন দেওয়া যাবে, বাজেটে এমন ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। তাতে বছরের শুরুতে রিটার্ন দিলে থাকবে করছাড়ের সুবিধা। আর দেরিতে রিটার্ন দিলে তার জন্য ৫ হাজার টাকা বা প্রদেয় করের ১০ শতাংশ জরিমানা আরোপের বিধান থাকতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয় করমুক্ত রাখার ঘোষণা আসতে পারে আগামী বাজেটে। বর্তমানে অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করাকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন।
ব্যাংক হিসাবে টিআইএন বাধ্যতামূলক
ব্যাংক হিসাব খুলতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হতে পারে আগামী অর্থবছর থেকে। তবে কিছু করদাতার বেলায় এ ক্ষেত্রে ছাড়ও থাকতে পারে। যেমন শিক্ষার্থী, সরকারি ভাতাভোগী, পেনশন সুবিধাভোগী। বর্তমানে ব্যাংক আমানতের মুনাফার টাকা তোলার সময় টিআইএন থাকলে ছাড় পাওয়া যায়। দেশে ১৭ কোটির বেশি ব্যাংক হিসাব আছে। এ ছাড়া ১৫০ সিসির ইঞ্জিন ক্ষমতার বেশি মোটরসাইকেল নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও টিআইএন বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা থাকতে পারে বাজেট বক্তব্যে।
রপ্তানি প্রণোদনার উৎসে কর কমতে পারে
রপ্তানির প্রণোদনার অর্থের ওপর বর্তমানে বিভিন্ন হারে উৎসে কর কাটা হয়। আগামী অর্থবছরে ১০ শতাংশ উৎসে কর কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে বলে বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্রে জানা যায়।
এ ছাড়া বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের নেওয়া ঋণের সুদের বিপরীতে ২০ শতাংশ উৎসে কর কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হতে পারে। এত দিন এই উৎসে কর মওকুফ ছিল। আগামী অর্থবছর থেকে বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধের সময় উৎসে কর বসবে।
বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) আমদানির ক্ষেত্রে সার্বিক শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাব থাকতে পারে বাজেটে। বর্তমানে ইভির ক্ষেত্রে শুল্ক-কর ভার ৯৩ শতাংশ। নতুন প্রস্তাবে ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত দামের ইভিতে ৬৪ শতাংশ এবং ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত দামের ইভির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ শুল্ক-কর হারের প্রস্তাব করতে পারেন অর্থমন্ত্রী।
কনটেন্ট ক্রিয়েটরের আয় করমুক্ত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয় করমুক্ত রাখার ঘোষণা আসতে পারে আগামী বাজেটে। বর্তমানে অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করাকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন। এ ছাড়া ফ্রিল্যান্সারদের আয়ও করমুক্ত রাখার ঘোষণা দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিদেশ থেকে আসা কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের আয়কে প্রবাসী আয়ের স্বীকৃতি দেওয়া হতে পারে বাজেটে। সেটি হলে প্রবাসী আয়ের বিপরীতে প্রণোদনাও পাবেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সাররা।
এ ছাড়া স্টার্টআপ, ইনোভেশন ভেঞ্চার ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে কর অব্যাহতি সুবিধা অব্যাহত রাখা হবে।
বৈদ্যুতিক গাড়ির কর কমছে
বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) আমদানির ক্ষেত্রে সার্বিক শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাব থাকতে পারে বাজেটে। বর্তমানে ইভির ক্ষেত্রে শুল্ক-কর ভার ৯৩ শতাংশ। নতুন প্রস্তাবে ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত দামের ইভিতে ৬৪ শতাংশ এবং ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত দামের ইভির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ শুল্ক-কর হারের প্রস্তাব করতে পারেন অর্থমন্ত্রী। বৈদ্যুতিক গাড়ির নিবন্ধন ও ফিটনেস নবায়নের সময় অগ্রিম কর কেটে রাখা হয়। সেটিও কমানোর উদ্যোগ রয়েছে সরকারের। এ ছাড়া ১৮০০ সিসি পর্যন্ত ইঞ্জিন ক্ষমতার ব্যান্ড নিউ হাইব্রিড গাড়ি আমদানির নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হতে পারে আগামী অর্থবছর থেকে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ খাতে বড় ধরনের কর সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তারই অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে উৎপাদন ও সরবরাহে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০৩৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অর্জিত আয়ের ওপর আয়কর অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে।
ব্যবসায়ীদের জন্য যা আছে
কৃষি ও ভোগ্যপণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে বর্তমানে করদাতাদের ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ কিংবা ১ শতাংশ হারে উৎসে কর পরিশোধ করতে হয়। নতুন বাজেটে বিদ্যমান এসব করহার কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হতে পারে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি ও ভোজ্যতেল।
খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে বা ডিস্ট্রিবিউশন পর্যায়ে দশমিক ২০ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে প্রতি হাজারে ২ টাকা কর দিতে হবে খুচরা ব্যবসায়ীদের। এ কর বছর শেষে করদাতার প্রদেয় করের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ খাতে বড় ধরনের কর সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তারই অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে উৎপাদন ও সরবরাহে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০৩৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অর্জিত আয়ের ওপর আয়কর অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে।
এ ছাড়া নারী উদ্যোক্তাদের টার্নওভার করের ক্ষেত্রে করমুক্ত সীমা ৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৭০ লাখ টাকা করা হতে পরে। এ ছাড়া দেশীয় কোম্পানির জন্য ভোজ্যতেল উৎপাদনে কর অব্যাহতি সুবিধা মিলবে প্রথম ১০ বছর—বাজেটে এমন প্রস্তাব থাকবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়। সূত্র জানায়, মুঠোফোন, ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন, এটিএম, সিসিটিভি ক্যামেরা দেশীয়ভাবে উৎপাদনে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও কর অব্যাহতি সুবিধা পাবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর খাতের কাঁচামাল ও পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতি মিলবে যথাক্রমে ২০৩১ ও ২০৩০ সাল পর্যন্ত।
এসি ও ফ্রিজের উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হতে পারে। এতে এসি-ফ্রিজের দামও কমতে পারে। আবার মুঠোফোন উৎপাদনে ২২ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হতে পারে। এতে দেশে উৎপাদিত মুঠোফোনের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
দাম বাড়তে পারে, কমতে পারে
আমদানি ও স্থানীয়—দুই পর্যায়ে আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, অগ্রিম কর, ভ্যাট, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক কমানোর ফলে কিছু পণ্যের দাম কমতে পারে আগামী অর্থবছর। আবার কিছু পণ্যের দাম বাড়তেও পারে। যেমন ক্যাশলেস লেনদেনে উৎসাহিত করতে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিনের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে পিওএসের দাম কমতে পারে।
এসি ও ফ্রিজের উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হতে পারে। এতে এসি-ফ্রিজের দামও কমতে পারে। আবার মুঠোফোন উৎপাদনে ২২ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হতে পারে। এতে দেশে উৎপাদিত মুঠোফোনের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাজেটের উদ্যোগের ফলে কমতে পারে বিদেশি লিপস্টিকের দামও। প্রতি কেজি লিপস্টিক আমদানিতে শুল্কায়ন মূল্য ৪০ ডলার থেকে কমিয়ে ৩০ ডলার করার উদ্যোগ থাকতে পারে বাজেটে। এ ছাড়া প্রতি কেজি লোশন, ফেস ক্রিম, ফেসওয়াশ আমদানিতে শুল্কায়ন মূল্য ১০ ডলার থেকে কমিয়ে ৭ ডলার নির্ধারণের কথাও ভাবছেন অর্থমন্ত্রী। এসব পদক্ষেপ নেওয়া হলে এসব পণ্যের দাম কমতে পারে বাজারে। যার সুফল পাবেন ভোক্তারা।
বাজেটের করসংক্রান্ত নানা পরিবর্তনের কারণে কিছু পণ্যের দাম বাড়তেও পারে এবার। যেমন সিগারেট, বিড়িসহ তামাকপণ্যের মূল্যস্তর ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে সিগারেটের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মৃতদেহ সংরক্ষণে মরচুয়ারি আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ কমিয়ে ১ শতাংশ করা হতে পারে।
আর বাজেটের করসংক্রান্ত নানা পরিবর্তনের কারণে কিছু পণ্যের দাম বাড়তেও পারে এবার। যেমন সিগারেট, বিড়িসহ তামাকপণ্যের মূল্যস্তর ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে সিগারেটের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় উৎপাদকদের উৎসাহিত করতে আমদানি করা কাজুবাদামের ওপর আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে। আবার রডের ওপর ভ্যাট ১৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫০ টাকা প্রস্তাব করতে পারেন অর্থমন্ত্রী।
এ ছাড়া পাঙাশ মাছের ফিলেট আমদানিতে বসতে পারে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক। এতে দামি হোটেল- রেস্তোরাঁয় এ মাছের দাম বাড়তে পারে।
চলতি অর্থবছরেও শুল্ক-কর আদায়ে বেশ ঘাটতি আছে। এনবিআরের সর্বশেষ হিসাবে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল অর্থাৎ ১০ মাসে ৬৯ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছে। এই সময়ে সব মিলিয়ে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। এই সময়ে কর আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৭১০ কোটি টাকা।
রাজস্ব আদায় সন্তোষজনক নয়
এনবিআরের শুল্ক-কর আদায় পরিস্থিতি মোটেই সন্তোষজনক নয়। কয়েক বছর ধরেই বিশাল রাজস্বঘাটতি হচ্ছে। ফলে সরকারকে ধারদেনা করে বাজেটের অর্থ জোগান দিতে হচ্ছে। দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৬-৭ শতাংশের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।
চলতি অর্থবছরেও শুল্ক-কর আদায়ে বেশ ঘাটতি আছে। এনবিআরের সর্বশেষ হিসাবে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল অর্থাৎ ১০ মাসে ৬৯ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছে। এই সময়ে সব মিলিয়ে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। এই সময়ে কর আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৭১০ কোটি টাকা।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যবসা করার প্রক্রিয়া সহজ করলে বিনিয়োগ আসবে। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ হবে, শুল্ক-কর আদায় বাড়বে। কর দেওয়ার উপায়গুলো যদি স্বয়ংক্রিয় করা যায়, তাহলে করদাতারা কর দিতে উৎসাহিত হবেন। তার জন্য রাজস্ব খাত সংস্কার প্রয়োজন বলেও মত দেন বিশেষজ্ঞরা।