খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর কর আরোপে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে: আইসিএবি
খুচরা পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে দশমিক ২ শতাংশ হারে কর কেটে রাখা হলে তা মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে বলে মনে করেন দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) নেতারা। আইসিএবির সভাপতি এন কে এ মবিন বলেন, খুচরা পর্যায়ে হাজারে দুই টাকা কর আরোপের ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।
এর সঙ্গে একমত পোষণ করেন আইসিএবির সাবেক সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন। তিনি বলেন, নতুন প্রস্তাব অনুসারে স্থানীয় পর্যায়ে সব খুচরা ব্যবসায়ী করের আওতায় আসতে বাধ্য হবেন। তখন খুচরা পর্যায়ে সব নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে। আইসিএবি নেতারা এই প্রস্তাব বাদ দেওয়ার দাবি জানান।
আজ শনিবার রাজধানীর সিএ ভবনে আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭–এর ওপর চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের ভাবনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন আইসিএবির কাউন্সিল সদস্য এম বি এম লুৎফুল হাদী।
সংবাদ সম্মেলনে আইসিএবির সভাপতি এন কে এ মবিন বলেন, সরকার রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, করব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং করব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
আইসিএবির সভাপতি বলেন, কর আপিলে অনলাইন শুনানির ব্যবস্থা করা যায়। খুচরা পর্যায়ে হাজারে দুই টাকার কর নির্ধারণে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। ট্রেড লাইসেন্স নবায়নে ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করায় ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য অসুবিধার সৃষ্টি হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি খাতের উন্নয়নের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে। তবে বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্নের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সরকার ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন করবে। এটি দেশের উন্নয়নযাত্রায় সহায়ক হবে। তবে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য অর্জনে সমন্বিত উদ্যোগ এবং কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।
আইসিএবি বলছে, প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি অর্থায়নের পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে সংগঠনটির নেতারা বলেন, সরকারের উচ্চমাত্রার ব্যাংকঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের প্রাপ্যতা কমিয়ে দিতে পারে, যা নতুন বিনিয়োগ ও শিল্প সম্প্রসারণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন আইসিএবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন রহমান রহমান হক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের পরিচালক সরকার নাহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইসিএবির সহসভাপতি মো. মনিরুজ্জামান। আইসিএবির কাউন্সিল সদস্যরাও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।