দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেছেন, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালনায় শৃঙ্খলা আনা দরকার। সে জন্য সংস্কার আনতে হবে।

এফবিসিসিআইয়ের ৫০ বছর পূর্তি হচ্ছে এ বছর। সংগঠনটি সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে কাল শনিবার থেকে ঢাকায় তিন দিনের বাংলাদেশ ব্যবসা সম্মেলন শুরু হচ্ছে। পাঁচ দশকে এফবিসিসিআইয়ের কার্যক্রমের মূল্যায়ন, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট, অর্থ পাচার, রাজস্ব আদায়সহ নানা বিষয়ে সম্প্রতি প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

একান্ত সাক্ষাৎকারে জসিম উদ্দিন বলেন, এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচনে একসময় প্রক্সি পদ্ধতি ছিল। একজনের ভোট আরেকজন দিত। ১৯৯৪ সালে সালমান এফ রহমান সরাসরি সাধারণ পরিষদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের পদ্ধতিটা কিছুটা বদলানো হলো। সাধারণ পরিষদের সদস্যরা ভোট দিয়ে পরিচালকদের নির্বাচিত করেন। সেই পরিচালকদের ভোটে নির্বাচিত হতেন সভাপতি ও সহসভাপতিরা। পরবর্তী সময়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাণিজ্যমন্ত্রী থাকার সময় (২০০১-০৪ সাল) নিয়মকানুনে পরিবর্তন আনা হলো। অনেক বড় বড় বাণিজ্য সংগঠন ও চেম্বারের নেতারা সাধারণ পরিষদের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে পরিচালনা পর্ষদে যেতে পারেন না, এমন যুক্তিতে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করতে মনোনয়নব্যবস্থা চালু হলো। তখন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ঢাকা চেম্বার, মেট্রোপলিটন চেম্বারসহ আটটি বাণিজ্য সংগঠনের নেতাদের এফবিসিসিআইয়ের পর্ষদে নিয়ে আসা হয়। বাকিরা নির্বাচন করে পর্ষদে এলেন।

এভাবেই বৈষম্য শুরু হয় মন্তব্য করে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, প্রতিবছরই দেখা গেল, একজন, দুজন করে মনোনীত পরিচালকের সংখ্যা বাড়ছে। ২০০৮ সালে আনিসুল হক (ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র) সভাপতি থাকার সময় এফবিসিসিআইয়ের পর্ষদ ছিল ৩৮ জনের। বর্তমানে তা বেড়ে ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ জন মনোনয়নের মাধ্যমে এসেছেন। সমস্যা যেটি হয়েছে, কেউ ভোট করে আর কেউ ভোট না করে একই পরিচালনা পর্ষদে বসছেন। এটা বিশাল একটা বৈষম্য। আবার এ সুযোগের অপব্যবহারও হচ্ছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে এফবিসিসিআইয়ের অন্তর্ভুক্ত আছে ৪১২টি বাণিজ্য সংগঠন। আমাদের তো এতগুলো খাতই নেই। অথচ একটি খাতের একটি বাণিজ্য সংগঠন হওয়ার কথা ছিল। বর্তমানে কেবল বস্ত্র খাতের ৩০টি, প্লাস্টিক খাতের ১২টি ও কৃষি খাতের ৩৬টি বাণিজ্য সংগঠন আছে। এমন উদাহরণ আরও আছে। তার মানে আমাদের সাধারণ পরিষদে অসামঞ্জস্য আছে। এই সাধারণ পরিষদ দিয়ে কীভাবে আপনি সঠিক নেতা নির্বাচন করবেন।

জসিম উদ্দিন আরও বলেন, ‘তারপরও আমি মনে করি, সংগঠনে নেতৃত্ব নির্বাচনে গণতান্ত্রিক অধিকার থাকা উচিত। অর্ধেকের বেশি নির্বাচন করে পর্ষদে আসছেন। যাঁরা নির্বাচন করে আসেন, তাঁরা মনোনীত ব্যক্তিদের ঠাট্টা করে বলেন “অটো ডিরেক্টর”। এই জায়গায় পরিবর্তন দরকার। সবার জন্য সমান নিয়ম হওয়া উচিত। বর্তমানে ৮০ জনের পরিচালনা পর্ষদ। ২১ মাস দায়িত্ব পালন করলাম অথচ পর্ষদ সভায় অর্ধেক পরিচালককেও পাইনি। বার্ষিক সাধারণ সভায়ও একই অবস্থা। তাহলে এত বড় পর্ষদের কী দরকার। কাজটি কী। আমার মনে হয়, দুনিয়ার কোনো ফেডারেশনে এত বড় পর্ষদ নেই। এফবিসিসিআইয়ের পরিচালনায় শৃঙ্খলা আনা দরকার। সে জন্য সংস্কার আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতিদের নিয়ে একটি কমিটি করে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আমরাও তাতে সায় দিয়েছিলাম। সংস্কার জন্য একটি কমিটির প্রস্তাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমাও দেওয়া আছে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসছে না।’

পুরো সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হবে আগামীকাল রোববার প্রথম আলোর ছাপা পত্রিকা ও অনলাইনে।