ব্যাংকের টাকা নিয়ে যারা বিনিয়োগ করেনি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে: এ কে আজাদ
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সাবেক সভাপতি ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে আজাদ বলেন, এত দিন যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেনি, তাদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর হাতে ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে অর্থনীতি ভালো জায়গায় আসবে না।
আজ বুধবার রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইনে ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন: স্বল্প ও মধ্য মেয়াদে নতুন সরকারের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন এ কে আজাদ। গোলটেবিল বৈঠকটি যৌথভাবে আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।
আরও বক্তব্য দেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটির (এমআরএ) নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) ভাইস চেয়ারম্যান সাদিক আহমেদ, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক মাঈন উদ্দিন, বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক আসিফ ইব্রাহীম, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য মোস্তফা আবিদ খান, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল আমিন, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে এ কে আজাদ বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ৩৬ শতাংশ গড় ঋণ খেলাপি। আর সরকারি ব্যাংকের ঋণ খেলাপি হচ্ছে ৫০ শতাংশ। এই টাকাগুলো কারা নিল? যারা ইচ্ছাকৃত খেলাপি, তাদের জন্য “ঋণ থেকে মুক্তির” একটি সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমরা এটাকে সমর্থন করি। কিন্তু যারা টাকা নিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেনি, তাদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর হস্তে ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে কিন্তু অর্থনীতি ভালো জায়গায় আসবে না।’
দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারকে সবার আগে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন এ কে আজাদ। তিনি বলেন, ‘কারখানায় গ্যাস–সংযোগের জন্য মন্ত্রণালয় ও তিতাসে হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ে আছে। কিন্তু কোনো নতুন সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। নতুন সংযোগ না হওয়ায় আমরা নতুন শিল্প বিনিয়োগ করতে পারছি না, মূলধনি যন্ত্রপাতি আনতে পারছি না। ফলে কর্মসংস্থানও বাড়ছে না।’
এ কে আজাদ বলেন, ‘গ্যাসের জন্য আমি দ্বিগুণ দাম পরিশোধ করছি। অথচ আমি সিএনজি থেকে গ্যাস নিয়ে কারখানায় বয়লার চালাই। আপনারা (সরকার) বাসাবাড়িতে গ্যাস সিস্টেম (সংযোগ) বন্ধ করে দেন। এখানে তো কোনো কর্মসংস্থান হচ্ছে না। তারা এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করুক। লাইনের গ্যাসটা যদি শিল্পে দেন, তাহলে কারখানা চলতে পারে।’
বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কম উল্লেখ করে এ কে আজাদ বলেন, ‘ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ ৩২ দশমিক ১৯ শতাংশ। সেখানে বেসরকারি খাতের ঋণ মাত্র ৬ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ, আমার (বেসরকারি খাত) জন্য টাকা নেই, কিংবা টাকা থাকলেও আমি তা নিতে পারছি না। কারণ, বিনিয়োগ করব কোথায়, আমার তো গ্যাস–সংযোগই নেই।’
সরকারের প্রতিটি স্তরে সুশাসন আনা আবশ্যক বলে মন্তব্য করেন এ কে আজাদ। তিনি বলেন, সরকার গ্যাসে ভর্তুকি দেয়। অথচ ১০ শতাংশ গ্যাস বিভিন্ন চোরাই লাইন দিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিয়ে যাচ্ছেন। তিতাসের লোক দিনের বেলায় (অবৈধ সংযোগ) কেটে আসেন, সন্ধ্যাবেলা আবার সেগুলো চালু হয়ে যায়। অর্থাৎ, সুশাসনের বিকল্প নেই। আপনি যদি আইনের শাসন যথাযথ প্রয়োগ করতে না পারেন, তাহলে কীভাবে সরকারি ব্যয় কমাবেন?