অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, ‘বর্তমান পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটি বাজেটের সঙ্গে অনেকটা সমন্বয় করা হয়েছে। কিন্তু করোনাসহ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আমাদের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ অবস্থায় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটি মধ্যবর্তী সময়ে আরেকবার মূল্যায়নের প্রয়োজন আছে। আমরা এই পরিকল্পনায় সার্বিক বিনিয়োগ, রপ্তানি গন্তব্য বৈচিত্র্যের মতো বিষয়ের সঙ্গে কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেছি।’

বৈদেশিক ঋণ নিলে তাতে কিছু নীতি সংস্কার হয় উল্লেখ করে শামসুল আলম বলেন, ‘আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের কাছে ঋণ চাওয়া হচ্ছে, আমি এ ঋণের পক্ষে। অনেকে বলে ঋণ নিলে মাথাপিছু ঋণের বোঝা বাড়বে। কিন্তু এই ঋণ ব্যক্তি নেয় না, রাষ্ট্র নেয়। রাষ্ট্র এটা পরিশোধ করবে। ঋণ নিলে সংস্থাগুলো কিছু শর্ত দেয়। তাতে কিছু নীতি সংস্কার হয়, সেটাও একটা অগ্রগতি। তবে এখন ঋণ নিতে সংস্থাগুলো বড় কোনো শর্ত দেবে না।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, ‘এই পরিকল্পনায় ১ কোটি ১৩ লাখের বেশি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কাজটা করা সম্ভব হলে মানুষের আয় বাড়বে। যেটা পরিকল্পনাকে সফল করতে ভূমিকা রাখবে। বাণিজ্যঘাটতি ও চলতি হিসাবের ঘাটতিতে লাগাম টানতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার কাজ করছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও হয়তো ভালো অবস্থানে চলে আসবে। তবে সংকটকালে যে কৃষি আমাদের রক্ষা করেছে, তার ওপর বিশেষ নজর দিতে হবে।’

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান জায়েদি সাত্তার বলেন, ‘আমাদের প্রবৃদ্ধি হওয়া উচিত রপ্তানি ও উৎপাদননির্ভর। তৈরি পোশাক খাতের ৪২ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানিকে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়নে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জন করতে হলে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় রপ্তানি বৈচিত্র্যের যে লক্ষ্য ঠিক করা আছে, তা অর্জন করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, এনবিআরকে কর সংগ্রহের বিষয়টি এখনো ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া হয়। অথচ বিষয়টি হওয়া উচিত ছিল এনবিআরের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে।