রং ও প্রাইমারের ওপর ১০% সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন উৎপাদকেরা
স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত রং ও প্রাইমারের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেইন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমএ)। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানকে এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি মো. মহসিন হাবিব চৌধুরী।
চিঠিতে বলা হয়েছে, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত রং ও প্রাইমারের ওপর আরোপিত সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হোক। ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা স্থানীয় রংশিল্পের জন্য অত্যন্ত অসহনীয়।
বিপিএমএ জানায়, গত কয়েক বছরে রংশিল্প বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থার কারণে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন এবং এলসি খোলার ওপর সরকারি বিধিনিষেধ এই শিল্পকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে রং পণ্যের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। আবাসন খাতও সংকটের মধ্যে রয়েছে।
এনবিআর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। অর্থনৈতিক মন্দা, পণ্যের উচ্চমূল্য এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক পরিবেশের অস্থিরতা ভোক্তাদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে, যা রং পণ্যের চাহিদা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় ইনপুট, যেমন পরিবহন, প্যাকিং ও বিতরণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় রং প্রস্তুতকারীদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে।
বিপিএমএ আরও বলছে, প্রস্তুতকারকেরা লাভের একটি বড় অংশ বাদ দিয়ে এ ব্যয় চাপ সহ্য করার চেষ্টা করেছে। কিছু কোম্পানি ইতিমধ্যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। স্থানীয় রংশিল্প যদি এভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হতে থাকে, তাহলে অনেক কোম্পানি ব্যবসা বন্ধ করে দেবে। এতে কর্মসংস্থান হ্রাস পাবে এবং সরকার ভ্যাট ও কর আকারে রাজস্ব হারাবে।
সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার মহসিন হাবিব চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রাইমারকেও সম্পূরক শুল্কের আওতায় আনা হয়েছে। যদিও এটি বিলাসপণ্য নয়। তিনি বলেন, রং অবকাঠামোকে ক্ষয়ক্ষতি এবং ক্ষয়প্রক্রিয়া থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয় নয়। রঙের বার্ষিক বিক্রি ছয় হাজার কোটি টাকার বেশি।
মহসিন হাবিব চৌধুরী বলেন, গত বছর বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে শিল্পে ধাক্কা লেগেছে এবং ৭ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা মোটেও উৎসাহজনক ছিল না। কারণ, সামষ্টিক অর্থনীতি ছিল নাজুক।
রং ও প্রাইমারের ওপর সম্পূরক শুল্ক কমানোর বিষয়ে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, রংশিল্পের ওপর বিষয়টি পর্যালোচনা করে সম্পূরক শুল্ক কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।