বাংলাদেশের মতো দেশের পক্ষে বিদেশি শক্তিগুলোর ক্ষমতার সমীকরণের সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া বেশ কৌতূহলোদ্দীপক হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন মুশতাক খান। তিনি বলেন, কখনো চীনের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া সুবিধাজনক, আবার কখনো আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া সুবিধাজনক। এই ভারসাম্য রক্ষা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, শুধু চীনের ঋণের ওপর নির্ভরশীল হওয়া যাবে না, আবার শুধু আইএমএফের ঋণের ওপরও নির্ভরশীল হওয়া যাবে না। ঋণের বোঝা আমাদেরই সামাল দিতে হবে, একতরফাভাবে কারও সূত্র মানা যাবে না।

মুশতাক খান মনে করেন, বাংলাদেশ এখন বরং সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। একদিকে আছে আইএমএফের মতো প্রতিষ্ঠান, যারা দেশের সুশাসন নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলবে; আরেক দিকে আছে চীনের মতো দেশ, যারা সুশাসন নিয়ে মোটেও মাথা ঘামায় না। তারা নিজেদের জাতীয় স্বার্থে কাজ করে; আর মনে রাখতে হবে, তাদের জাতীয় স্বার্থ আমাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে মিলবে না। এটা বুঝেই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে উন্নয়ন অধ্যয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তারা আলোচনা করেন। বর্তমান যুগে এই শাস্ত্র কীভাবে পড়ানো উচিত, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তাঁরা।

ডেভিড লুইস তাঁর আলোচনায় বলেন, উন্নয়নের বিষয়টি এখনো মূলত প্রবৃদ্ধিকেন্দ্রিক, যদিও মাঝেমধ্যে সেখানে মানব উন্নয়নের কথা চলে আসে। তবে প্রবৃদ্ধি আর মানব উন্নয়ন সমার্থক নয়, সে জন্য এসব শব্দবন্ধ গুলিয়ে ফেলা যাবে না।

এ ছাড়া উন্নয়ন অধ্যয়নের ইতিহাস ও বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেন ডেভিড লুইস। তিনি বলেন, উন্নয়ন অধ্যয়নে যেসব বিষয় একসময় জাতীয় পরিসরে আলোচনা হতো, সেগুলো এখন সর্বজনীন রূপ নিয়েছে। যেমন জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্য ইত্যাদি।

সামগ্রিকভাবে বক্তারা কয়েকটি বিষয়ে একমত পোষণ করেন। সেগুলো হলো—বিচ্ছিন্ন উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত দেখে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ইতিহাস ও সামগ্রিক কাঠামো দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, আইনের শাসন থাকাই যথেষ্ট নয়, যেসব দেশে আইনের শাসন আছে, সেসব দেশও বিপদে পড়েছে। বিশেষ করে তাঁরা যুক্তরাজ্যের কথা উল্লেখ করে। তাঁরা বলেন, অর্থনীতি ফটকাবাজির কারণেও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সঞ্চালকের বক্তব্যে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমির বলেন, উন্নয়ন অধ্যয়নের পরিসর ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আলোচনা করতে এ সংলাপ আয়োজন করা হয়েছে। তবে উন্নয়ন অধ্যয়ন নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে, দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন এ বিষয়ে পড়ানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘আলোচকদের কথায় জানা গেল, কোথায় আমাদের গুরুত্ব দেওয়া উচিত এবং কীভাবে দেওয়া উচিত।’

উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। তাঁরা বক্তাদের উদ্দেশে
বিভিন্ন প্রশ্ন করেন এবং বক্তারাও তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দেন।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন