বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) উদ্যোগে আজ রোববার আয়োজিত ‘সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ: কতটা ঝুঁকিপূর্ণ’ শীর্ষক আলোচনা ও মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন অধ্যাপক ম তামিম।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সামষ্টিক অর্থনীতি পরিস্থিতি নিয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, ব্যাংকিং খাত নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং বহিঃখাত নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। এ ছাড়া ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী, আর্থসামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বক্তব্য দেন। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

অনুষ্ঠানে ম তামিম বলেন, দেশে যখন কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র শুরু হয়, তখন কয়লা ও তেল আমদানি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। একই সময়ে উচিত ছিল নিজেদের গ্যাসের জন্য অনুসন্ধান চালানো। সেটি হয়নি। পরবর্তীকালে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তা-ও অনেক দেরি করে নেওয়া হয়েছে। ২০০০ সালের পর থেকে গ্যাস অনুসন্ধানের রাজনৈতিক সাহস কোনো সরকারই নিতে পারেনি।

বর্তমানে দেশে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে আছে উল্লেখ করে ম তামিম বলেন, দেশে যেকোনো সময়ে উৎপাদন কমে যেতে পারে। আন্তর্জাতিকভাবে গ্যাস ও তেল আমদানি নিয়ে সংকট তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের আগে থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বেশি ছিল। যুদ্ধের কারণে দাম আরও বেড়েছে।

ম তামিম আরও বলেন, ‘ইউরোপ এখন রাশিয়ার ওপর থেকে গ্যাসনির্ভরতা কমাচ্ছে। এ জন্য সারা বিশ্বে যত জায়গায় যত গ্যাস আছে, তা নিতে ইউরোপ হাত বাড়াবে। সে জন্য আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। কারণ, আমরা তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে পারব কি না। পাশাপাশি কয়লার ওপর নির্ভরতা অব্যাহত রাখাটা ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। আরেকটি আশা হচ্ছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি। এটা বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। সার্বিকভাবে সাশ্রয় ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমাদের চাহিদা কমিয়ে আনতে পারি।’

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন