কৃষিতে ২১ লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব

আজ বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে 'ট্রান্সফরমিং বাংলাদেশ এগ্রিকালচার: আউটলুক ২০৫০' শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে উপস্থিত অতিথিরাছবি: প্রথম আলো

কৃষি খাতের উৎপাদন, বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে ২৫ বছর মেয়াদি একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়। যেখানে কৃষি খাতের চাহিদা ও সরবরাহ নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি দিকনির্দেশনা রয়েছে। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ২১ লাখ কোটি টাকার সরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।

আজ বুধবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ‘ট্রান্সফরমিং বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচার: আউটলুক ২০৫০’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। কৃষিসচিব মুহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি ছিলেন জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার ঢাকাস্থ প্রতিনিধি জিয়াকুন শি। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সচিব) মনজুর হোসেন ও মো. মুস্তাফিজুর রহমান।

খসড়া এই পরিকল্পনা তুলে ধরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, কৃষি খাতের উন্নয়নে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যেখানে ২৫ বছরে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৩ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন পড়বে। আর দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রায় ১৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা লাগবে। সব মিলিয়ে প্রায় ২১ লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগ লাগবে, যা আসবে উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে।

বীজ, সার সেচ, কীটনাশক এবং কৃষিতে স্মার্ট প্রযুক্তির প্রসারে এসব অর্থ ব্যয় করা হবে বলে সেমিনারে জানানো হয়। ১৩টি থিমেটিক খাতের ৩৫টি উপখাতকে সামনে রেখে এ পরিকল্পনা করা হয়েছে। যার মাধ্যমে পুষ্টিনিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা, কৃষিতে মূল্য সংযোজন, কৃষিপ্রযুক্তি, কৃষিশিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধি, কৃষি বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সেমিনারে কৃষি খাতের যান্ত্রিকীকরণের বিষয়ে বলা হয়, দেশে প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকার কৃষিযন্ত্রের বাজার তৈরি হয়েছে, যার ৭২ শতাংশ আমদানিনির্ভর। এখন এ খাতের প্রয়োজনীয় যন্ত্রের উৎপাদন শুরু হয়েছে দেশেই।

সেমিনারে আরও জানানো হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রায় ২৩৮টি নতুন বীজের জাত প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া মহাপরিকল্পনায় ৩৫টি শস্যের জন্য ২৪৫টি স্থানীয় কীটনাশক এবং ১২৩টি প্রযুক্তি প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। কৃষি খাতের সেচব্যবস্থা নিয়ে বলা হয়, এখনো এই খাতে ৭২ শতাংশ মাটির নিচের পানি ব্যবহার করা হয়। ভূগর্ভস্থ পানির বদলে প্রযুক্তির সহায়তায় ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানো উচিত। আর সারের আমদানিনির্ভরতা বাড়তে থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চাপে পড়ছে। তাই সারের স্থানীয় উৎপাদনে নজর দিতে হবে।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, কৃষকের উন্নতি না হলে দেশের উন্নতি হবে না। বড়দের সুদ মাফ হয়ে যায়; কিন্তু কৃষকেরা প্রণোদনা পান না। আমদানি করে হবে না, নিজেদের উৎপাদন বাড়াতে হবে।

সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য মনজুর হোসেন বলেন, ‘ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক কৃষি এবং চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদ বাড়বে। ফলে ছোট খামার থাকবে কি না, সেটা একটি বড় প্রশ্ন। কৃষিপণ্যের চাহিদা নিরূপণে এখনো আমাদের দুর্বলতা রয়েছে।’

সভাপতির বক্তব্যে কৃষিসচিব মুহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, এ মহাপরিকল্পনা কৃষি খাতের নীতি গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে। সারা দেশের এবং সব ধরনের অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে এটা চূড়ান্ত করা হবে।

সেমিনারে কৃষিবিদ, কৃষিবিজ্ঞানী, কৃষি অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী এবং কৃষি খাতের উদ্যোক্তা ও কৃষক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।