কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে আইএফসির নতুন উদ্যোগ

আইএফসির অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের একাংশছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি ব্যবসা ও শিল্প খাতে নারীদের কর্মসংস্থানে আরও উৎসাহিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি)। নতুন এ উদ্যোগের নাম ‘নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য অংশীদারত্ব: ব্যবসায় সমতা’।

উদ্যোগটি নারীদের জন্য, বিশেষ করে কর্মজীবী পিতামাতার জন্য—যা সম্মানজনক ও সহায়ক কর্মক্ষেত্র তৈরিতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বা সবুজ অর্থনীতিতে নারীর উপস্থিতি বৃদ্ধিতেও জোর দেবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে আইএফসি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এক্সিলারেটিং ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইন সাউথ এশিয়া ও মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সঙ্গে অংশীদারত্বে এই ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি চালু করেছে আইএফসি।

আইএফসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যত্নের দায়িত্ব, চাকরিতে প্রবেশাধিকার, চলাফেরার সীমাবদ্ধতা ও সামাজিক নিয়ম—নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের পেছনে এগুলো মূল বাধা হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে দেশের কর্মশক্তির এক-তৃতীয়াংশ নারী, যেখানে মাত্র ৪ শতাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় নারী প্রতিনিধিত্ব আছে। এই ব্যবধান কমানো গেলে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) তিন হাজার কোটি ডলার যুক্ত হতে পারে।

বৈশ্বিক বিভিন্ন গবেষণায় জানা যায়, বেসরকারি খাতে নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের ফলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক উন্নতি, বৃহত্তর উদ্ভাবন ও উন্নত সংস্কৃতি তৈরির সুযোগ হয়। দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে লিঙ্গ বৈচিত্র্য বেশি, সেখানে ইক্যুইটিতে ৫০ শতাংশ বেশি ও বিনিয়োগের ওপর ৬৫ শতাংশের বেশি রিটার্ন পাওয়া যায়।

ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন খাতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর ১ লাখ ৪৯ হাজার কর্মী আইএফসির এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। এ তালিকায় আছে আকিজ-বশীর গ্রুপ, বাটা বাংলাদেশ, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ডিবিএল গ্রুপ, ইস্টার্ন ব্যাংক, এনার্জিপ্যাক ইলেকট্রনিকস, ফকির নিটওয়্যারস, ইডকল, আইপিডিসি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, প্রাণ গ্রুপ, প্রাইম ব্যাংক, সিঙ্গার, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ ও উর্মি গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠান।প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী দুই বছর এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করবে। এতে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশীদারত্ব, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তির জন্য অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি দেশে নারীর ক্ষমতায়নেও সহায়তা করবে।

আইএফসি বাংলাদেশের পার্টনারশিপ ফর উইমেন এমপ্লয়মেন্ট প্রোগ্রামের প্রধান জারিন তাসনিম বলেন, ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রমশক্তিতে নারীদের বৃহত্তর অংশগ্রহণ বা অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির আবশ্যকতা আছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবসায় আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রতিভা ধরে রাখা, খ্যাতি ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পাওয়ার মতো সুবিধা আছে এগুলোর।

বাংলাদেশে এই প্রথম এ ধরনের অংশীদারি কর্মসূচি চালু হয়েছে জানিয়ে জারিন তাসনিম আরও বলেন, এর মাধ্যমে কোম্পানিগুলোতে লিঙ্গবৈষম্য কমানো ও নারীর সমতা আনার মাধ্যমে সমৃদ্ধ বেসরকারি খাতের পথ তৈরি হবে।

ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি বলেন, ইইউ লিঙ্গসমতা বাড়ানো, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়সংগত পরিবেশ তৈরির কাজ করছে। একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক বাধাও দূর করতে চায় তারা।

এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, বেসরকারি খাতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কৌশল ও নীতি গ্রহণ এবং অনুশীলনের ক্ষেত্রে এই অংশীদারত্ব কর্মসূচি কাজ করবে।

ইতিমধ্যে ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্য ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভিন্ন দেশে আইএফসির উদ্যোগ কার্যকর ব্যবসায়িক কৌশল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।