রংপুরে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলেছেন, রংপুর অঞ্চল এখনো শিল্পায়নের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে। তাই এ অঞ্চলে শিল্প স্থাপনে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দ্রুত বাস্তবায়ন, নতুন শিল্পে কর রেয়াত, প্রণোদনা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন–সুবিধা জরুরি।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আরসিসিআই) আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রাক্–বাজেট মতবিনিময় সভায় এসব দাবি তুলে ধরেন রংপুর অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা। রংপুর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কার্যালয়ের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন রংপুর চেম্বারের সভাপতি এমদাদুল হক।
মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা একটা বড় প্রকল্প নেব। সারা দেশে ৫ বছর লাগুক, ১০ বছর লাগুক, একেবারে চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে গ্রাম থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত যাঁদের কর দেওয়ার কথা, তাঁদের করের আওতায় আনতে ব্যাপক জরিপ চালাব। উন্নত দেশে প্রত্যেক নাগরিকের চোখ হলো দুর্নীতি দমন কমিশনের চোখ। তাঁরা যখনই কোনো অসংগতি দেখেন, রিপোর্ট করেন। প্রত্যেক নাগরিকের দুটো চোখই হলো পুলিশের চোখ। তাঁরা যখনই অন্যায় দেখেন, সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট করেন। আমাদের দেশে আমরা এই কালচার এখনো শুরু করতে পারিনি।’
সভায় রংপুর চেম্বারের সাবেক সভাপতি মো. আকবর আলী বলেন, ‘আমাদের এলাকার অনেকেই করের আওতায় নেই। অথচ চারতলা, পাঁচতলা বাড়ি আছে। ওরা যদি করের আওতায় আসে, তাহলে রাজস্ব আদায় অবশ্যই বাড়বে।’
সভায় রংপুর চেম্বারের পক্ষে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া তুলে ধরেন সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মনজুর আহমেদ। তিনি বলেন, রংপুর অঞ্চলে শিল্প ও বাণিজ্যের প্রধান বাধা গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাব। চেম্বারের পক্ষ থেকে শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রণোদনার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
সভায় ইটভাটার মালিক, বিড়ি ব্যবসায়ী, কাপড় ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, বেকারি মালিকসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা তাঁদের নিজ নিজ খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন। রংপুর চেম্বারের পরিচালক পার্থ বোস বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করেন। অন্তত সাড়ে চার কোটি মানুষের ট্রেড লাইসেন্স আছে। কিন্তু ৮ থেকে ১০ লাখ ব্যবসায়ী ভ্যাট দিচ্ছেন। সরকার চাইলে কত ব্যবসায়ী ভ্যাট দিচ্ছেন না, তা বের করতে পারে।
রংপুর কারুপণ্যের পরিচালক সুরফা হোসেন রংপুর অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য ১০ বছরের কর অবকাশ সুবিধা প্রদান, স্বল্প সুদে ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা, কৃষিপণ্যশিল্পে ব্যবহারের ক্ষেত্রে উৎসে করের বিধান বাতিল, বিদেশি বিনিয়োগের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাসহ ৯টি দাবি জানান।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন রংপুর চেম্বারের সাবেক সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী, বর্তমান জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নুরুল ইসলাম, পরিচালক সালাউদ্দিন মোস্তফা জামাল, প্রণয় বণিক, রংপুর উইমেন চেম্বারের সভাপতি শাহনাজ পারভিন প্রমুখ।