গত এক সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে লেজার কাগজের দাম। প্রতি টনের দাম ৩০ হাজার টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। প্রতি টন নিউজপ্রিন্ট কাগজের দাম ৬৪ হাজার থেকে বেড়ে ৮৫ হাজার টাকা হয়েছে। কম দামি এ কাগজের দাম গত দুই সপ্তাহে বেড়েছে ৩৩ শতাংশ।

মিল থেকে কাগজের সরবরাহ কম উল্লেখ করে রাজধানীর নয়াবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মেসার্স রুবেল অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী মো. রুবেল মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘মিল থেকে কাগজ মিলছে কম। এদিকে হুট করে দামটা বেশি বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের কাছে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। তাঁরা কাগজ কিনছেন কম। বেচাকেনা অর্ধেকে নেমে এসেছে।’

তবে এ পরিস্থিতির জন্য জ্বালানিসংকটকে দায়ী করেন মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক এস এম মুজিবুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘যে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে রেশনিং করে নিত্যপণ্যের মিলগুলো চালুতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এতে করে অন্য মিলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।’

পাইকারি বাজারে শুধু যে কাগজের দাম বেড়েছে তা নয়। বেড়েছে মলাটের কাগজের দামও। গত এক সপ্তাহে প্রতি ১০০টি মলাটের কাগজের দাম ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৬০০ টাকা হয়েছে। একই পরিমাণ আর্ট কার্ডের দামও এখন ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি। ১০০টি আর্ট কার্ড মিলছে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। এক রিম রঙিন কাগজের দাম ৮৫০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা বেড়ে পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়।

বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই সময়ে প্রকাশকেরা বইমেলার প্রস্তুতি নেন। অনেক করপোরেট প্রতিষ্ঠান ডায়েরি, ক্যালেন্ডার করায়। এ জন্য কাগজের ব্যবসা ভালো থাকে। এবার ছাপার কাজটা আপাতত বন্ধ রেখে বাদবাকি কাজ সেরে রাখছি, যাতে কাগজের দাম কমলে দ্রুত ছাপার কাজ সেরে বাজারজাত করা যায়।’

পাইকারি বাজারে কলম তৈরির প্লাস্টিকের প্রতি ২৫ কেজি বস্তার দাম ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৪০০ টাকা হয়েছে। কাগজ–সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উপকরণের দামও বাড়তি। পাইকারিতে এক সপ্তাহ আগে ১২০ পৃষ্ঠার এক ডজন খাতা বিক্রি হয়েছিল ৩১০ থেকে ৩২০ টাকায়। এখন তা ৪০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।

নয়াবাজারের আলমগীর প্রোডাক্টসের বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজারে কাগজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ডায়েরি, নোটবুক, বিভিন্ন ফাইলপত্র, লেজার খাতা, বক্স ফাইল, খাতার মতো কাগজের উপকরণের দাম গত এক সপ্তাহে নতুন করে ৩০ শতাংশের মতো বেড়েছে।’

নুর স্টেশনারির মালিক নাজির আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাঝারি আকারের ১০০টি খাকি খামের দাম ২৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩০ টাকা।’ বাবুবাজার এলাকার ভিশন পেপার অ্যান্ড প্রিন্টার্সের মালিক টিপু সুলতান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজার স্বাভাবিক থাকলে এই সময়ে কাজের অভাব হয় না। কিন্তু কাগজের দাম বাড়তে থাকায় কাজ কমতে শুরু করেছে।’

গতকাল রোববার রাজধানীর আরামবাগ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এখানকার প্রকাশনা ব্যবসারও গতি কমে এসেছে। এই এলাকার মাস্টার কালার প্রিন্টিং প্রেসের ব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুরোনো যেসব কাজ হাতে ছিল, সেসব গ্রাহককে ইতিমধ্যে ই-মেইল ও মুঠোফোনে জানানো হয়েছে, নতুন করে দাম সমন্বয় ছাড়া এসব কাজ করা সম্ভব নয়।’