জ্বালানি খাতে অতীতে হওয়া কিছু চুক্তি ‘অসম’ ছিল: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর
দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে অতীতে হওয়া কিছু চুক্তি ‘অসম’ ছিল। ভবিষ্যতে যাতে দেশের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়, সেভাবে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ও ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় কুমার ভার্মার সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলাদা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, পতিত সরকার অর্থনীতিকে ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় রেখে গেছে। অর্থনীতির এখন নতুন প্রাণশক্তি দরকার। এই প্রাণশক্তি দিতে ঋণনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে বিনিয়োগভিত্তিক প্রবৃদ্ধির পথে এগোতে চায় সরকার।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ঋণনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে বিনিয়োগভিত্তিক প্রবৃদ্ধির পথে যাওয়ার লক্ষ্যে ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, বিনিয়োগ বাড়লে উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। সেই রাজস্ব দিয়েই স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য জনসেবামূলক খাতে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে।
বৈঠকে ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দুই দেশের চলমান প্রকল্প এবং ভারতের দেওয়া লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, অতীতে নেওয়া প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা, কতগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে এগোনো যায়, এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘চীনের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য বড় হলেও এখন প্রয়োজন শিল্পায়নভিত্তিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি। আমরা চাই ঋণের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে বিনিয়োগের সংস্কৃতিতে যেতে।’ তিনি বলেন, চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে মূলত বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বাংলাদেশ সফরের সময় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা বলা হয়েছিল উল্লেখ করে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়েছে। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে চীনা সরকার এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা বা ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সম্ভাবনা নিয়েও।
বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট আশ্বাস পাওয়া গেছে কি না, তা জানতে চাইলে উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার ভিত্তিতে এগোয়। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে একটি আস্থা তৈরি হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য এমন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, যা দীর্ঘ মেয়াদে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে সহায়ক হবে।