চাঁদপুরের ব্যবসা
অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে শোভাবর্ধক ঘাস
ঘাস চাষ করে রাব্বি নিজে তো স্বাবলম্বী হয়েছেন, সেই সঙ্গে তাঁর এ ঘাস চাষ প্রকল্পে ৩০ থেকে ৪০ জন মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
চাঁদপুরের পতিত ফসলহীন জমিতে চাষ হচ্ছে সবুজ মোলায়েম শোভাবর্ধক বা কার্পেট ঘাস। বাড়ি বা অফিসের আঙিনা, বাগানসহ যেকোনো স্থানে সৌন্দর্যবর্ধনে এ ঘাস ব্যবহার করা যায়। বর্তমানে চাঁদপুর থেকে অনলাইনে সারা দেশে এ ঘাস বাজারজাত করা হচ্ছে।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার লোহারপুল এলাকার যুবক গোলাম রাব্বি প্রায় দুই বছর আগে সদরের বহরিয়া দোকানঘর এলাকায় প্রায় ৪০ শতাংশ পরিত্যক্ত জমি ভাড়া নিয়ে পরীক্ষামূলক পরিবেশবান্ধব এ ঘাস চাষ শুরু করেন। এরপর তা লাভজনক হওয়ায় ওই এলাকায় পৃথক চারটি স্থানে প্রায় পাঁচ একর জমিতে তা চাষ করা হচ্ছে।
গোলাম রাব্বি বলেন, ‘আমি দীর্ঘ প্রায় সাত বছর বাহরাইনে ছিলাম। সেখানেই এই লন কার্পেট ঘাস চাষ শিখি। সৌন্দর্যবর্ধনে এ সবুজ কার্পেট ঘাস ব্যাপক ব্যবহার হতো। বাহরাইন থেকে দেশে ফিরে আসার পর বিদেশে যেতে আর ভালো লাগছিল না। প্রাথমিকভাবে সফল হওয়ার পর ধীরে ধীরে চাষাবাদের জমির পরিমাণ বৃদ্ধি করি। পরবর্তীকালে এটি বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিই। বিষয়টি সারা দেশের মানুষের নজরে আসায় আমার এ প্রকল্পের পরিসরও বড় হতে থাকে। বর্তমানে ওই এলাকার চারটি স্থানে এ ঘাস চাষ হচ্ছে।’
গোলাম রাব্বি আরও বলেন, লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় এ ঘাস এখন অনলাইনে বসেই সারা দেশে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রয়োজনে নিজ লোক দিয়েও পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি।
ঘাস চাষ করে রাব্বি নিজে তো স্বাবলম্বী হয়েছেন, সেই সঙ্গে তাঁর এ ঘাস চাষ প্রকল্পে ৩০ থেকে ৪০ জন মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তাঁর সফলতা দেখে অনেকেই এ ঘাস চাষে আগ্রহী হয়ে সরাসরি ঘাস কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি রাব্বির এ ঘাস চাষ দেখে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক বাংলো ও ভূমি কার্যালয়ের জন্য চার হাজার বর্গফুট কার্পেট ঘাস কিনে নিয়ে যান, যার মূল্য প্রতি বর্গফুট ৮০ টাকা।