অতীতে জ্বালানি খাত অলিগার্কদের মোটাতাজা করেছে: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, পতিত সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে অলিগার্কদের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি না করে আমদানিনির্ভর জ্বালানি খাত গড়ে তোলা হয়েছে।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, অতীতে জ্বালানি খাত অলিগার্কদের মোটাতাজা করেছে। শিল্পমালিক ও সাধারণ ভোক্তারা তাদের কাছে খেলনার পাত্র হয়েছেন। জ্বালানি খাত কয়েকজন ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ করত। তাঁর মতে, কয়েকটি কোম্পানি পুরো জ্বালানি খাত বেঁধে ফেলেছে। এ থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। এই বিষধর চক্র বাংলাদেশকে এমনভাবে পিছিয়ে দিচ্ছে যে জনগণের করের টাকায় ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
আজ রোববার বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও গণমাধ্যম ঢাকা স্ট্রিম আয়োজিত ‘আসন্ন বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণ’ শীর্ষক সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ কথা বলেন।
রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এই অনুষ্ঠান হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। এতে গবেষক, ব্যবসায়ী ও আমলারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য মনজুর হোসেন, নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, আগামী বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে ৫টি কাজ করা হবে। এগুলো হলো: ১. ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর জন্য জ্বালানি খাতের মিশ্রণ করা হবে। সেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়বে। ২. বিনিয়োগ ও শিল্প ব্যবস্থাপনা এবং সাধারণ ভোক্তাদের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দামের কাঠামো ঠিক করা হবে। ৩. নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের নীতি কাঠামোতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন নির্ভরতা বাড়ানো হবে। ৪. জ্বালানি নিশ্চয়তায় গ্যাস খোঁজা ও উত্তোলনের (এক্সপ্লোরেশন) জন্য বিদেশি কোম্পানির পাশাপাশি দেশি প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ৫. জ্বালানি নিরাপত্তার ন্যূনতম মজুত রক্ষা করা হবে।
অনুষ্ঠানে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) জীবাশ্ম জ্বালানির উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে মোট জ্বালানি খাতের বরাদ্দের ৪ শতাংশের বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয় না। এতেই বোঝা যায়, অতীতের সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে কম প্রাধান্য দিয়েছে।
ঢাকা স্ট্রিমের সম্পাদক ও প্রকাশক গোলাম ইফতেখার মাহমুদ বলেন, গণমাধ্যমে প্রতিবছর নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু বাজেটে এর প্রতিফলন কম থাকে। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন করতে গেলে উৎপাদককে ৩২ জায়গায় যেতে হয়, যা ভোগান্তি বৃদ্ধি করে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষক খালিদ মাহমুদ। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিভিন্ন যন্ত্রপাতির আমদানি শুল্ক কর তুলনামূলক বেশি। তাঁর মতে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বরাদ্দ পুরো জ্বালানি খাতের মাত্র ৩-৪ শতাংশ। মূল প্রবন্ধে সরকারকে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কৌশল তৈরি করার সুপারিশ করা হয়।