তবে অ্যাডাম স্মিথ হয়তো রাজরাজড়াদের সন্তুষ্ট করতে অবাধ বাজারের তত্ত্ব দিয়েছেন, তাতে বাজারবিষয়ক একধরনের মৌলবাদ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমরা চাইলে বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে নিজেদের মতো করে ব্যবহার করতে পারি।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান বলেন, অ্যাডাম স্মিথের অদৃশ্য হাতের তত্ত্বের বাস্তব কার্যকারিতা আছে, তা না হলে বাজারব্যবস্থা কীভাবে চলছে। তিনি মনে করেন, অ্যাডাম স্মিথ যে সহানুভূতি, অঙ্গীকার ও সহযোগিতার কথা বলেন, তা ব্যক্তিজীবনে চর্চার বিষয়।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক সেলিম রশিদ। তিনি বলেন, অ্যাডাম স্মিথ অর্থনীতির জনক হিসেবে পরিচিত হলেও অর্থশাস্ত্রে তাঁর মৌলিক অবদান নেই, বরং তিনি অত্যন্ত ব্যবহারিক মানুষ ছিলেন। ১৭৭৬ সালে তিনি মুক্ত বাণিজ্যের তত্ত্ব দিয়ে অর্থনীতিবিদ হিসেবে খ্যাতি পান। তবে এসব তিনি করেছেন রাজরাজড়াদের সন্তুষ্ট করতে।

বাঙলার পাঠশালা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ জাভেদ অ্যাডাম স্মিথের আরেক দিকে আলো ফেলেন। তিনি বলেন, অ্যাডাম স্মিথের প্রথম বই থিওরি অব মোরাল সেন্টিমেন্ট; স্মিথ সেখানে শ্রমিকের কল্যাণের কথা বলেছেন, তাদের সহায়তা করা ও তাদের প্রতি সহানুভূতির কথা বলেছেন। ফলে নীতিশাস্ত্রে অ্যাডাম স্মিথের অবদান আছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।