পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশে ভালো নির্বাচন হয়েছে: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম বলেছেন, পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশে অনেক ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে দুটি দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এখনো তাদের (পাকিস্তান) মধ্যে সংকট ও হানাহানি চলছে।
আজ বুধবার মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) ত্রৈমাসিক মধ্যাহ্নভোজ সভায় এসব কথা বলেন আহসানুল ইসলাম। রাজধানীর মতিঝিলে এমসিসিআই কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আহসানুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি আমার সঙ্গে একটা দেশের রাষ্ট্রদূত গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে কথা বলেছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে সেই রাষ্ট্রদূতের কাছে পাকিস্তানের নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলাম। কিন্তু দেখা গেল তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে উৎসাহী নন। পরাশক্তিগুলো বাইরে থেকে দেশের অভ্যন্তরের পার্থক্য বোঝে না, এটা দৃশ্যমান।’
এ সময় মানবাধিকার নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থানের সমালোচনা করেন আহসানুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এ দেশে ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসন ছিল। তার আগে তারাই দাস নিয়ে গিয়ে কাজ করাত। ৯/১১–এর পরে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে পশ্চিমারা যা করেছে, এসব ক্ষেত্রে কিন্তু মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা হয়নি। সুতরাং আমরা যেন এ চাপগুলোকে চাপ মনে না করি। আমাদের শক্তিশালী ও গতিশীল নেতৃত্ব রয়েছে। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) চাপে নতি স্বীকার করার মানুষ নন।’
যাঁরা অনেক উৎসাহী হয়ে দেশের অগ্রগতি দেখেন না বা দেখতে চান না, তাঁদের পাকিস্তানের কথা চিন্তা করার পরামর্শ দেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে জয়ী না হলে বর্তমান পাকিস্তানের মতো আমাদের অবস্থা হতো।’
ভবিষ্যতে সবার সহযোগিতায় এ দেশে আরও ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠান ও গণতন্ত্র চর্চা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন আহসানুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো মানুষের জন্য প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করে উন্নয়ন ও অগ্রগতি অর্জন করা আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।’
এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও এমসিসিআই সহসভাপতি সিমিন রহমান, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (করপোরেট ফিন্যান্স) ও এমসিসিআই পরিচালক উজমা চৌধুরী প্রমুখ।