রাজধানী ঢাকার পূর্বের সঙ্গে পশ্চিমের সংযোগ ঘটাতে ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি উড়াল সড়ক নির্মাণ নিয়ে একের পর এক সিদ্ধান্ত বদল করছে সরকার। আগের অবস্থান থেকে সরে এসে এবার সরকারি–বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) এ উড়ালসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিল সরকার। গতকাল বুধবার অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি পিপিপিতে বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণে উড়ালসড়ক নির্মাণের খরচও বাড়ছে।
রাজধানীর যানজট কমিয়ে আনার পাশাপাশি দেশের পশ্চিমের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে এ প্রকল্পটি হাতে নেয় সেতু বিভাগ। এ নিয়ে ২০১৭ সালে একটি বিস্তারিত সমীক্ষা করা হয়। সেই সমীক্ষায় এ প্রকল্পের পথ নির্ধারণ করা হয় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের বালিয়াপুর থেকে নিমতলী-কেরানীগঞ্জ-ফতুল্লা-বন্দর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত। এ উড়াল সড়কের দৈর্ঘ্য ৩৯ কিলোমিটার।
সেতু বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ প্রকল্পে অর্থায়নে প্রথমে আগ্রহ প্রকাশ করে মালয়েশিয়া। দুই পক্ষের মধ্যে আলাপ–আলোচনা চললেও তা বেশি দূর এগোয়নি। পরে চীন এ প্রকল্পে অর্থায়নে এগিয়ে আসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে চীন সরকারও সরে যায়। দুটি দেশই বিল্ড, অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফার (বিওটি) পদ্ধতিতে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব করেছিল। এখন এসে পিপিপিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
২০১৭ সালের সমীক্ষায় এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার কোটি টাকা। গতকাল কমিটির বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সামসুল আরেফিন জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ১৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বেশি। পিপিপিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদনের পর এখন দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তারপর অনুমোদনের জন্য ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হবে।
এদিকে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শুরু না হওয়ায় এখনই ব্যয় বেড়েছে ছয় হাজার কোটি টাকা। এ ব্যয় আরও অনেক বেড়ে যেতে পারে।
সেতু বিভাগ বলছে, সাভার উপজেলার ‘মধুমতি মডেল টাউনে’র কাছে হবে উড়ালসড়কের মূল পয়েন্ট। সেখান থেকে একটি অংশ চলে যাবে সাভার-হেমায়েতপুরে। অপর অংশটি গিয়ে ঠেকবে পুরান ঢাকার নিমতলী থেকে কেরানীগঞ্জ-ইকুরিয়া-জাজিরা-ফতুল্লা-হাজীগঞ্জ-বন্দর-মদনপুর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে। হেমায়েতপুর থেকে সাভার বালিয়াপুর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে এটি মিলিত হবে। এই উড়ালসড়কের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর সঙ্গে ঢাকা-আরিচা ও ঢাকা-চট্টগ্রাম, দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই দুই মহাসড়কের মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হবে।