অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রতি মাসে ২৫ লাখ করে আগামী চার বছরে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়ার যে পরিকল্পনা বাজেটে তুলে ধরেছেন, সেটাকে ভুল মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, এক বছরের মধ্যেই টিকা প্রদান কার্যক্রম শেষ করা উচিত। টিকা দিতে দেরি হলে করোনার সংক্রমণ ও আক্রান্তের হার নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর গতকাল রোববার আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত এক আলোচনায় ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা এসব কথা বলেন। তাঁরা বলেন, প্রাণঘাতী করোনা মাথায় রেখে বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে যতটা নজর দেওয়া উচিত ছিল, ততটা দেওয়া হয়নি। বাজেটে সবার টিকার প্রাপ্তির বিষয়েও সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ নেই।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘টিকা নিয়ে বিশ্বব্যাপীই রাজনীতি চলছে। সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে আমরা প্রতিশ্রুত টিকা পাইনি। তবে টিকা পাওয়ার বিকল্প চেষ্টা করছি। আশা করছি শিগগিরই অন্য দেশের টিকা মিলবে।’
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন টিকা দেওয়া হয় ২০ লাখ মানুষকে।
পরে সেটি বাড়িয়ে দৈনিক ৪০ লাখ করা হচ্ছে। আর বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতি মাসে ২৫ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার কথা বলেছেন। এভাবে ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিলে এই কার্যক্রম শেষ করতে সময় লাগবে চার বছর। কিন্তু তত দিনে করোনার কী অবস্থা হয়, কেউ জানে না। সে জন্য এত সময় না নিয়ে আগামী অর্থবছরের মধ্যেই টিকার কার্যক্রম শেষ করার তাগিদ দেন আহসান মনসুর।
আহসান মনসুর মনে করেন, করোনা–পরবর্তী সময়ে অনেক মেয়েশিক্ষার্থী আর স্কুলে ফিরে আসবে না। টানা দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষা ক্ষেত্রে বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া উচিত। প্রয়োজনে স্কুলের বাইরে খোলা মাঠে ক্লাস নেওয়া যেতে পারে।
মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, বাজেটে দেওয়া মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর (এমএফএস) করপোরেট কর বাড়ানোর প্রস্তাব যৌক্তিক নয়। সরকার যেখানে ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলছে, সেখানে এমএফএসের ওপর করপোরেট কর সাড়ে সাত শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব সাংঘর্ষিক। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ কর বসানো অযৌক্তিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক আফতাব উল ইসলাম বলেন, দেশের জিডিপিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) মোট অবদান ২৫ শতাংশ। এই শিল্পের সঙ্গে ৭৫ লাখ মানুষ সম্পৃক্ত। করোনার প্রভাবে এই খাতের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ বেঁচে থাকার জন্য যুদ্ধ করছে। কিন্তু তাদের জন্য বাজেটে সুনির্দিষ্ট কিছু রাখা হয়নি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অ্যামচেমের সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন অ্যামচেমের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাসের এজাজ বিজয় প্রমুখ।