দেশি টাইলস সুরক্ষা পায়নি

বিদেশি টাইলসের ট্যারিফ মূল্য কমানো হলেও দেশীয় টাইলসের উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে ১৫% সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার বা হ্রাস করা হয়নি।

বাসাবাড়ি, অফিস ভবন, কারখানা কিংবা অন্য যেকোনো স্থাপনায় ব্যবহৃত টাইলসের চাহিদার প্রায় ৮৪ শতাংশই জোগান দিচ্ছে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। তারপরও আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় টাইলসের উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে ১৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার বা হ্রাস করা হয়নি। অথচ বিদেশি টাইলস আমদানিতে ট্যারিফ মূল্য প্রতি বর্গমিটারে ১ মার্কিন ডলার পর্যন্ত কমানো হয়েছে। তাতে আমদানি করা টাইলসের দাম প্রতি বর্গফুটে ১০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।

সিরামিক খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, বাজেটে যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাতে দেশে বিদেশি টাইলসের ব্যবসা বাড়বে। আর ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো।

বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৩০টি প্রতিষ্ঠান টাইলস উৎপাদন করে। তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। বার্ষিক ২০ কোটি ৬৫ লাখ বর্গমিটার টাইলস উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে এসব কোম্পানির। সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার টাইলসের বাজারের মধ্যে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে ৩ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকার ব্যবসা। আর বিদেশি টাইলস বিক্রির পরিমাণ ৭৪১ কোটি টাকা।

বাজেটের আগে বিসিএমইএ দেশীয় টাইলস উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে ১৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং বিদেশি টাইলস আমদানিতে ন্যূনতম ট্যারিফ মূল্য বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু বাজেটে সেই দাবি মানা হয়নি। উল্টো দেশীয় টাইলস ও স্যানিটারি পণ্যের ডিলার ও পরিবেশকেরা উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে যে কমিশন পান, তার ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।

বাজেটে বিভিন্ন স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তবে সিরামিক খাতের ব্যবসায়ীরা কোনো সুরক্ষা পেলেন না।
সিরাজুল ইসলাম, সভাপতি, বিসিএমইএ।

বিসিএমইএ সিরামিকের সিঙ্ক, বেসিন, পেডেস্টাল বেসিন, কমোড ও প্যানের উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে যথাক্রমে ১৫ ও ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানালেও তা করা হয়নি। তবে দেশীয় স্যানিটারি লং প্যানের উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এ ছাড়া সিরামিক শিল্পে ব্যবহৃত কয়েকটি প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর আমদানি শুল্ক এবং কিছু ক্ষেত্রে আরোপ করা নিয়ন্ত্রণমূলক ও সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি করেছিল বিসিএমইএ। দাবিটি বাস্তবায়ন হয়নি। অবশ্য কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানিতে অগ্রিম কর ৫ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। করপোরেট করহারও কমেছে।

বাজেটে সিরামিক পণ্য উৎপাদনে কাঁচামালের অপচয় যৌক্তিক করার আহ্বান জানিয়েছিল বিসিএমইএ। সংগঠনটি বলেছে, সিরামিক খাতের ব্যবহৃত কাঁচামালের ৮০-৯০ শতাংশই প্রাকৃতিক খনিজ পদার্থ। সেই খনিজের মধ্যে জলীয় বাষ্প, লোহা ও পানির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। সে কারণে চূড়ান্ত উৎপাদন পর্যন্ত ৩০-৪০ শতাংশ প্রক্রিয়াগত লোকসান হয়ে থাকে। অথচ আমদানিতে শতভাগ পণ্যের ওপরই সব ধরনের শুল্ক ও কর পরিশোধসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় করতে হয়।

জানতে চাইলে বিসিএমইএর সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজেটে বিভিন্ন স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তবে সিরামিক খাতের ব্যবসায়ীরা কোনো সুরক্ষা পেলেন না। উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার না করে উল্টো আমদানি করা টাইলসের ট্যারিফ মূল্য কমানো হয়েছে। এতে আমদানি বেড়ে যাবে। আমরা উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হব।’