ব্যবসা পরে, আপাতত সবার জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা জরুরি

এবারের বন্যায় সুনামগঞ্জ জেলার প্রায় পুরোটা পানির নিচে তলিয়ে যায়। সেখানকার ব্যবসা-বাণিজ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি খায়রুল হুদা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফয়জুল্লাহ

খায়রুল হুদা চপল

প্রশ্ন :

প্রথম আলো: ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেলেন, পরিস্থিতি এখন কেমন?

খায়রুল হুদা: পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে, সেটা বলার সুযোগ এখনো আসেনি। যদিও শহরের পানি ৮০ শতাংশ নেমেছে। তবে মানুষ এখন ভয় ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পানির নামার পর কিছু ব্যবসায়ীকে দেখলাম ধোয়া-মোছার কাজ করছেন। মানুষের প্রকৃতিই হয়তো এমন যে সে শত প্রতিকূলতায় থেকেও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে। তবে এটা বলতে দ্বিধা নেই, এবারের বন্যায় ভয়াবহতা এতটাই ব্যাপক ছিল যে এখানকার মানুষ সহজে এই অভিজ্ঞতা ভুলতে পারবে না।

প্রশ্ন :

প্রথম আলো: সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল, এখন কী অবস্থা?

খায়রুল হুদা: পুরো দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল সুনামগঞ্জ শহর। তিন দিন ধরে একেবারে কেউ এই শহরে প্রবেশ করতে পারেনি। তখন শহরের অনেক অবস্থাসম্পন্ন পরিবারেও খাবারের সংকট দেখা দেয়। এখনো অনেক পরিবারে সেই সংকট বিদ্যমান। দোকানপাট পানিতে ডুবে ছিল। কিছু কেনার উপায় ছিল না। শহরের একটা জায়গা ছিল না, যেটা পানিতে ডুবেনি। এখন ট্রাক আসতে পারছে। এতে সবজির বাজারও খোলা হয়েছে। বন্যার কারণে বাজারে পর্যাপ্ত মাছের দেখাও মিলছে। তবে অধিকাংশ পরিবারে রান্না করার মতো পরিস্থিতি এখনো হয়নি। কিছুটা স্বাভাবিক হতেও বেশ সময় লাগবে।

প্রশ্ন :

প্রথম আলো: ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসেছিলেন কি না, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কেমন হতে পারে?

খায়রুল হুদা: সত্যি বলতে, শহরে বসার তেমন কোনো জায়গা নেই। এরপরও পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসেছিলাম। তাঁদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনোভাবে পণ্যের দাম বাড়ানো না হয়। সবাই এখন চরম দুর্দিনের মধ্যে, এখন যেন কাউকে হয়রানি না করা হয়। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো বলা সম্ভব নয়। আমরা আসলে এখনো ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে আছি। কীভাবে মানুষকে একটু স্বস্তি দেওয়া যায়, সেটা চেষ্টা করছি। আর মাত্রই তো সবাই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলতে শুরু করলেন। একটু স্বাভাবিক হলেই বসব, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে চেষ্টা করব। যে ক্ষতি হয়েছে, তা তো পোষানোর নয়। তবে একটা ধারণা থাকা প্রয়োজন কেমন ক্ষতি হলো।

প্রশ্ন :

প্রথম আলো: ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া কী হবে?

খায়রুল হুদা: আগেই বলেছি, ক্ষতির পরিমাণ বলে শেষ করা যাবে না। শহরের বাইরের পরিস্থিতি আরও খারাপ। অনেক ব্যবসায়ী প্রায় সবকিছু হারিয়েছেন। মালামাল তো বটেই, অনেকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানই নেই। বানের পানিতে ভেসে গেছে। এখন পরিস্থিতি একটু ভালো হলে সব ব্যবসায়ীর সঙ্গে বসব। করণীয় কী হতে পারে, তা নির্ধারণ করব। তবে সরকারি সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়াতে ব্যাংকগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। কীভাবে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যায়, সেটা নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলব।