ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ ও চার কর্মকর্তাকে জরিমানা

শেয়ারবাজারগ্রাফিকস : মো. মাহাফুজার রহমান

গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে ব্রোকারেজ হাউস ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ ও প্রতিষ্ঠানটির ৪ কর্মকর্তাকে মোট ৬৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে সম্প্রতি তাদের এই জরিমানা করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বিএসইসির এ–সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়েছে, গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্রোকারেজ হাউস ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজকে ৩০ লাখ টাকা, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রহমত পাশা ও কর্মকর্তা শহিদুজ্জামানকে ১৫ লাখ করে ৩০ লাখ টাকা এবং অপর দুই কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ও আবদুল আহাদ শেখকে ৩ লাখ টাকা করে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাঁদের গত ৩০ এপ্রিল আদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, আইয়ুব আলী নামে ব্রোকারেজ হাউসটির এক গ্রাহক গত বছরের মার্চে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ দাখিল করেন। তাঁকে না জানিয়ে বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাবের মুঠোফোন নম্বর, ই–মেইলসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বদল, ভুয়া পোর্টফোলিও সরবরাহ ও স্বাক্ষর জাল করে নতুন বিও হিসাব খোলাসহ বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তিনি। তখন বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ডিএসই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা উঠে আসে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তদন্ত প্রতিবেদনটি বিএসইসিতে পাঠায় ডিএসই। তার ভিত্তিতে বিএসইসি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শুনানিতে ডাকে। তবে শুনানিতে দেওয়া তাঁদের বক্তব্য শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করেনি বিএসইসি। বরং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জরিমানার সিদ্ধান্ত দেয়।

বিএসইসির আদেশে বলা হয়েছে, গ্রাহক আইয়ুব আলীকে না জানিয়ে বিও হিসাবে তাঁর দেওয়া নম্বর বদলে ভুয়া একটি নম্বর যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি ই–মেইল ঠিকানাও বদলে ফেলা হয়। ফলে শেয়ার কেনাবেচার হালনাগাদ কোনো তথ্য পাননি ওই গ্রাহক। এর মধ্যে গ্রাহকের হিসাবে কোটি টাকার বেশি শেয়ার কেনাবেচা হলেও তিনি তা জানতে পারেননি। প্রকৃত তথ্য আড়াল করে তাঁকে অসত্য ও বানোয়াট পোর্টফোলিও (কেনাবেচার পর বিও হিসাবের তথ্য) সরবরাহ করা হয়েছে। এমনকি ব্রোকারেজ হাউসে ওই গ্রাহক নিজে যে বিও হিসাব খুলেছিলেন, সেটি সংরক্ষণ না করে গ্রাহকের অজান্তে ভুয়া ও অসত্য তথ্য দিয়ে নতুন বিও হিসাব খোলা হয়, যেখানে গ্রাহকের স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছে। বিএসইসির শুনানিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বলেন, গ্রাহকের পক্ষে নিযুক্ত এক প্রতিনিধির নির্দেশে ওই গ্রাহকের বিও হিসাবে শেয়ার লেনদেন করা হয়েছে। গ্রাহকের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা ওই বিও হিসাব তদারকির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে অভিযুক্তদের এই বক্তব্য গ্রহণ করেনি বিএসইসি।

এদিকে এ বিষয়ে ওই গ্রাহকের করা একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজের সিইও রহমত পাশার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘গ্রাহক বিষয়টি নিয়ে মামলা করেছেন, যা চলমান। তাই মামলাধীন বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’