বিমা খাতে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি গভীরে শিকড় গেড়েছে: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ সোমবার বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কার্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় আইডিআরএ চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক উপস্থিত ছিলেনছবি: আইডিআরএ

বিমা খাতে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি গভীরে শিকড় গেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, গ্রাহকের আস্থা ফেরাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিমা দাবি পরিশোধ করতে হবে। প্রয়োজনে গ্রাহকের পাওনা মেটাতে কোম্পানির সম্পদ বিক্রি করতে হবে।

আজ সোমবার বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় আইডিআরএ চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্রাহকেরা ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে বিমা করেন। অথচ অনেক কোম্পানি তাঁদের দাবি পরিশোধ করছে না। প্রায় ৫৭ শতাংশ বিমা দাবি পরিশোধ করা হয়নি। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, বিমা কোম্পানিগুলোকে দাবি পরিশোধের জন্য সময়সীমা দেওয়া হচ্ছে। যারা দাবি পরিশোধ করছে, তারা ভালো করছে। যারা করছে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনেক কোম্পানি গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ না করে জমি ও অন্যান্য সম্পদ কিনেছে। নগদ অর্থের সংকট থাকলে সম্পদ বিক্রি করে হলেও গ্রাহকের দাবি পরিশোধ করতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যে মানুষটা নিরাপত্তার জন্য বিমা করে, নিজের কষ্টার্জিত টাকা থেকে দেয়, তাঁকে আপনি কীভাবে সেই টাকা থেকে বঞ্চিত করবেন?’

কিছু দাবি এরই মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইডিআরএর চেয়ারম্যানও দাবি পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে দাবি পরিশোধ করা নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নয়, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকেই তা করতে হবে।

ব্যাংক খাতের মতো বিমা খাতেও অনিয়ম ও দুর্নীতি দেখা যাচ্ছে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁরা ব্যাপক অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অনিয়ন্ত্রণ দেখতে পেয়েছেন। তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা হবে।

বিমা আইন পরিবর্তনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই খাতেও প্রয়োজনীয় ‘রেজোল্যুশন’ কাঠামো গড়ে তোলা হবে। এ–সংক্রান্ত পরিবর্তন আগামী দিনে সংসদে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

দুই সার্ভার থাকবে না

বিমা খাতে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি চালুর পাশাপাশি সব কোম্পানিকে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, লেনদেন হবে অনলাইনে। যত বেশি শারীরিক যোগাযোগ থাকবে, দুর্নীতির সুযোগ তত বেশি থাকবে।

কিছু কোম্পানির দুটি সার্ভার ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি সার্ভারে প্রকৃত তথ্য এবং অন্যটিতে ভিন্ন লেনদেন রাখার মতো ঘটনা পাওয়া গেছে। এখন থেকে কোনো কোম্পানিতে দুই সার্ভার রাখা যাবে না। নির্ধারিত সময়ের পর পরিদর্শনে গিয়ে দুই সার্ভার পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিমা খাতের সাত-আটটি কোম্পানির অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, তারা কীভাবে এখনো কার্যক্রম চালাচ্ছে, সেটিই চিন্তার বিষয়। এসব কোম্পানিকে স্বল্প সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা পারবে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোনো কোম্পানিকে একীভূত করার বিষয়ে এখনই মন্তব্য করতে চাননি অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোম্পানির জন্য যা প্রয়োজন, সেটিই করা হবে।

আইডিআরএতে জনবল ও দক্ষ পেশাদার জনবলের ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সরকারের ডেপুটেশনে থাকা কর্মকর্তার সংখ্যা কমিয়ে আইডিআরএর নিজস্ব জনবল গড়ে তোলা হবে। তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলা হবে।

বিভিন্ন মামলা ও আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ সমস্যা সমাধানে বিমা আইন ও আইডিআরএর ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হবে।

বিমা খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকড় গভীরে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এগুলো দূর করা কঠিন কাজ। কিন্তু জনগণের স্বার্থে কঠিন কাজটিই করতে হবে।’