ডিমের দাম ডজনে কমেছে ১০ টাকা
বাজারে শীতের সবজি ও দেশি মাছের সরবরাহ ভালো থাকায় ডিমের চাহিদা কমেছে। ফলে এক ডজন ডিমের দাম ১০ টাকা কমে এখন ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে ডিমের দাম কমলেও মুরগির দাম আগের দামে স্থিতিশীল রয়েছে। ফুলকপি ও লাউয়ের দাম বাড়তি। সপ্তাহ দুয়েক আগে ঘন কুয়াশার কারণে সরবরাহ কমায় এ দুটির দাম বেড়ে গিয়েছিল। এখনো প্রতিটি ফুলকপি ৫০-৬০ টাকায় এবং লাউ ৮০ টাকার বেশিতে বিক্রি হয়।
এদিকে বাজারে নতুন চাল আসতে শুরু করায় এ ধরনের চালের দাম কিছুটা কমেছে, যদিও পুরোনো চাল উচ্চ দামে স্থিতিশীল রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজার এবং কারওয়ান বাজারে সরেজমিন ঘুরে এ রকম চিত্রই দেখা গেছে।
দাম কমার কারণ
ডিম ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাধারণত শীত মৌসুমে বাজারে শাকসবজি ও দেশি মাছের সরবরাহ ভালো থাকায় ডিমের দাম কমে। এবারও তা-ই হয়েছে। বর্তমানে পাইকারিতে প্রতিটি ডিমের দাম ৮ টাকার নিচে নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে ঢাকার তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আমানত উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, এখন বাজারে শীতের সবজি রয়েছে, দেশি মাছও পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি দেশি হাঁসের ডিমের মৌসুম এখন। ফলে মুরগির ডিমের চাহিদা কিছুটা কমেছে। তবে উৎপাদন কমেনি। সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমেছে।
পাইকারিতে প্রতিটি ডিম ৭ টাকা ৯০ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে জানিয়ে মোহাম্মদ আমানত উল্লাহ বলেন, দাম এভাবে কমতে থাকলে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যবসা ছেড়ে দিতে পারেন।
মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউন কাঁচাবাজারের খুচরা ডিম বিক্রেতা হৃদয় মিয়া জানান, দাম কমলেও ডিমের চাহিদা কম। সে কারণে বিক্রিও কম হচ্ছে।তবে ডিমের দাম কমলেও ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। আর সোনালি মুরগির দাম ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি।
চালের বাজার স্থিতিশীল
বাজারে নতুন আমন চাল আসতে শুরু করেছে। ফলে নতুন চালের দাম কিছুটা কমেছে। তবে পুরোনো চাল এখনো বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। নতুন মোটা চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। একই ধরনের পুরোনো চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, নতুন চালের ভাত আঠালো হয়, আর পুরোনো চালের ভাত ঝরঝরে এবং রান্নায় ভাতের পরিমাণ বেশি হয়। এ কারণে পুরোনো চালের চাহিদা বেশি থাকায় দাম কিছুটা বেশি থাকে।
ফুলকপি-লাউয়ের দাম বাড়তি
বাজারে শীত মৌসুমের বিভিন্ন শাকসবজির পর্যাপ্ত জোগান থাকায় বেশির ভাগই ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এতে স্বস্তি পাচ্ছেন ভোক্তারা। তবে সপ্তাহ দুয়েক আগে ঘন কুয়াশার কারণে ফুলকপি ও লাউয়ের সরবরাহ কিছুটা কমায় দুটোরই দাম বেড়ে গিয়েছিল। এখনো প্রতিটি ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের লাউ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। একই কারণে মুলার দামও কিছুটা বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি হয়েছে।
এদিকে বাজারে নতুন মৌসুমের মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় এর দাম স্থিতিশীল রয়েছে। পাশাপাশি ভারত থেকে আমদানি করা এবং দেশি পুরোনো পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, আমদানি করা পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং দেশি পুরোনো পেঁয়াজ ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে
দেখা যায়, প্রতি কেজি নতুন আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, শিম ৪০ থেকে ৬০ টাকা, শালগম ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি টমেটো ৮০ থেকে ৯০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা ও একেকটি বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া সয়াবিন তেল আগের মতোই ১৯৫ টাকায় লিটার বিক্রি হচ্ছে।