বাজেট জনকল্যাণমুখী ও ব্যবসাবান্ধব: বিজিএমইএ

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে জনকল্যাণমুখী ও ব্যবসাবান্ধব বলে উল্লেখ করেছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটি বলেছে, ২০৩৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রবৃদ্ধিকেন্দ্রিক ধারণা থেকে সরে এসে সামগ্রিক উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো খাতগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া বাজেটের অনন্য দিক।

বাজেট–পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় এমনটাই জানিয়েছে বিজিএমইএ। সংগঠনটি বলেছে, বাজেটে আগামী অর্থবছরের জন্য সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগনির্ভর কর্মসংস্থান, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, বিনিয়ন্ত্রণকরণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি নিরাপত্তাসহ ১০টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার চিহ্নিত করা হয়েছে, যা দেশের শিল্প, বাণিজ্য এবং বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।

গতকাল শনিবার বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম এই প্রতিক্রিয়া গণমাধ্যমে পাঠিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, অনলাইনভিত্তিক ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’র মাধ্যমে সাত দিনে লাইসেন্স ও ৪৮ ঘণ্টায় কোম্পানি নিবন্ধন ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় ও সময় কমাবে। পরিবেশবান্ধব টেকসই শিল্পায়নের লক্ষ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য শতাংশ করহার, সৌর খাতের উপকরণ আমদানিতে ২০৩১ সাল পর্যন্ত শুল্ক–কর মওকুফ এবং লিথিয়াম ও সোডিয়াম আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনে ২০৩০ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতির প্রস্তাবটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

বন্ডের অপব্যবহার রোধে সিনথেটিক ওভেন ফেব্রিকস আমদানিতে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার ও ত্রৈমাসিক ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বিধানকেও বিজিএমইএ স্বাগত জানিয়েছে। পাশাপাশি নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করমুক্ত করাকে জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

বিজিএমইএ বলেছে, দেশের কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মূল চালিকা শক্তি তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে সংকটে রয়েছে। বৈশ্বিক মন্দা ও অভ্যন্তরীণ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে চলতি অর্থবছরে তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ, ইউনিটপ্রতি গড় মূল্য ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ ও ব্যাক–টু–ব্যাক ঋণপত্র খোলার পরিমাণ ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে বিগত তিন বছরে প্রায় ৪০০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

এই সংকট উত্তরণে বাজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য বিজিএমইএর সুপারিশ হচ্ছে—

১. তৈরি পোশাক রপ্তানির বিপরীতে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৬৫ নির্ধারণ করা। সেটি আগামী পাঁচ বছরের জন্য স্থিতিশীল রাখা।

২. নগদ সহায়তায় আয়কর মওকুফ: নগদ সহায়তার বিপরীতে আয়কর কর্তনের হার ৫ শতাংশ করা হলেও তারল্যসংকটের কারণে এটি সম্পূর্ণ মওকুফ করলে প্রতিষ্ঠানগুলো স্বস্তি পায়।

৩. দ্বৈত কর নিরসন: ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলোকে সচল রাখতে সাব–কন্ট্র্যাক্ট মূল্যের ওপর থেকে ১ শতাংশ দ্বৈত উৎসে করের অবসান ঘটানো।

৪. করপোরেট কর নিশ্চিতকরণ: তৈরি পোশাক খাতের বিশেষায়িত করপোরেট করহার (১২ শতাংশ ও তৈরি পোশাক কারখানার জন্য ১০ শতাংশ) যেন অন্য কোনো আয়ের অজুহাতে সাধারণ উচ্চ হারে নির্ধারণ না করা হয়।