সাক্ষাৎকার: এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান
গ্রাহকের কার্ড লেনদেনকে সর্বোচ্চ সুরক্ষিত করেছে ঢাকা ব্যাংক
ক্যাশলেস লেনদেনের মাধ্যমে জীবনকে গতিশীল, নিরাপদ ও সহজ করার অন্যতম মাধ্যম ব্যাংক কার্ড। গ্রাহকদের সহজ ও ঝামেলাহীন লেনদেনে অভ্যস্ত করতে প্রথম আলো ডটকম তৃতীয়বারের মতো ‘ব্যাংক কার্ড আয়োজন’ করেছে। এতে অংশ নিয়েছে ঢাকা ব্যাংক পিএলসি। আয়োজন ঘিরে প্রত্যাশা ও নিজেদের আধুনিক কার্ড সেবার নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন ব্যাংকটির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড হেড অব রিটেইল বিজনেস এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারেক মাহমুদ নিজামী।
প্রথম আলো: প্রথম আলো ডটকম এ বছর তৃতীয়বারের মতো ‘ব্যাংক কার্ড আয়োজন’ করেছে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আপনাদের প্রত্যাশা কী?
মোস্তাফিজুর রহমান: গ্রাহকদের আরও উন্নত ও আধুনিক ব্যাংকিংয়ের সুবিধা প্রদানের অঙ্গীকার পূরণে ঢাকা ব্যাংক পিএলসি এ আয়োজনে অংশ নিয়েছে। আশা করি, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যাংক কার্ড ব্যবহারে গ্রাহকেরা আরও সচেতন ও স্মার্ট লেনদেনের প্রতি আগ্রহী হবেন।
প্রথম আলো: বর্তমানে আপনাদের ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডগুলোয় গ্রাহকদের জন্য বিশেষ কী কী সুবিধা বা রিওয়ার্ড অফার রয়েছে?
মোস্তাফিজুর রহমান: ঢাকা ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডে রয়েছে বিশেষ সুবিধা। সংশ্লিষ্ট কার্ডধারীরা পাচ্ছেন ইএমআই, ক্যাশব্যাক, শপিং ডিলস ও রিওয়ার্ড পয়েন্ট অফার। পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ডে তারকা হোটেল ও রেস্টুরেন্টে পাচ্ছেন একটি কিনলে সর্বোচ্চ পাঁচটি বুফে উপভোগ করার সুযোগ। এ ছাড়া গ্রাহকদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন পার্টনার মার্চেন্টে বিশেষ ডিসকাউন্ট ও শূন্য (০) শতাংশ ইএমআইয়ের মতো সুবিধা। যা তাঁদের কেনাকাটার অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত ও সুবিধাজনক করে তুলছে।
প্রথম আলো: অনলাইন কেনাকাটা ও আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে আপনাদের কার্ডগুলো গ্রাহকের কতটা আস্থা অর্জন করতে পারছে?
মোস্তাফিজুর রহমান: ঢাকা ব্যাংকের কার্ডগুলো আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ, যা অনলাইন কেনাকাটা ও আন্তর্জাতিক লেনদেনে বেশ নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য। আমাদের ব্যাংক ব্যবহার করছে মাল্টি লেভেল অথেনটিকেশন এবং ইএমভি চিপের মতো উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, যা ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করেছে।
প্রথম আলো: গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তায় আপনাদের ব্যাংকের কার্ডে কোন ধরনের শক্তিশালী প্রযুক্তি বা সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে?
মোস্তাফিজুর রহমান: থ্রিডি সিকিউরড, ইএমভি চিপ কার্ড ও রিয়েল–টাইম ফ্রড মনিটরিং ব্যবস্থার মতো আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে গ্রাহকের কার্ড লেনদেনকে সর্বোচ্চ সুরক্ষিত করেছে ঢাকা ব্যাংক।
প্রথম আলো: ঢাকা ব্যাংকের কার্ডগুলোয় ‘ইজি বাই’, বিশেষ ডিসকাউন্ট ও জিরো পার্সেন্ট ইএমআইয়ের সুবিধা গ্রাহকদের কেনাকাটার অভিজ্ঞতাকে কতটা সহজতর করেছে?
মোস্তাফিজুর রহমান: পার্টনারদের মাধ্যমে প্রাপ্ত বিশেষ ডিসকাউন্ট ও শূন্য শতাংশ ইএমআইয়ের সুবিধা গ্রাহকদের কেনাকাটার প্রক্রিয়াকে আরও নির্বিঘ্ন করে তুলেছে। শুধু তা–ই নয়, গ্রাহকদের জন্য বড় কেনাকাটায়ও করে তুলেছে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী।
প্রথম আলো: ঢাকা ব্যাংকের ‘স্পার্ক মাস্টারকার্ড প্রিপেইড কার্ড’ তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের জন্য কীভাবে একটি আধুনিক পেমেন্ট সলিউশন হিসেবে কাজ করছে?
মোস্তাফিজুর রহমান: তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের আধুনিক পেমেন্টে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ‘স্পার্ক মাস্টারকার্ড প্রিপেইড কার্ড’। এই কার্ডের মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছাড়াই লেনদেন করা সম্ভব, যা তরুণদের লাইফস্টাইল ও অনলাইন কেনাকাটাকে আরও আরামদায়ক ও সহজলভ্য করে তুলেছে। ডুয়েল কারেন্সির সুবিধা থাকায় কার্ডধারীরা তাঁদের স্পার্ক কার্ড দেশে ও দেশের বাইরে নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারবেন।
প্রথম আলো: ঢাকা ব্যাংকের ‘মাস্টারকার্ড অরণি’ একজন নারী গ্রাহককে অর্থনৈতিকভাবে কতটা স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে?
মোস্তাফিজুর রহমান: ‘মাস্টারকার্ড অরণি’ ক্রেডিট কার্ডটি নারী গ্রাহকদের আর্থিক স্বাধীনতা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি করছে। পারচেজ, ডিসকাউন্ট ও নানা রিওয়ার্ডের সুবিধাগুলো গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা পূরণে সহায়ক হয়েছে।
প্রথম আলো: গ্রাহকদের সচেতন করতে এবং স্মার্ট লেনদেনে উৎসাহ দিতে প্রথম আলো ডটকমের ‘অনলাইন ব্যাংক কার্ড আয়োজন’ কেমন ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন?
মোস্তাফিজুর রহমান: স্মার্ট লেনদেনের জন্য এ আয়োজনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রাহকেরা এখানে ব্যাংক কার্ডের বিভিন্ন সুবিধা সম্পর্কে অবগত হওয়ার পাশাপাশি কার্ড ব্যবহারে আরও আগ্রহী হবেন। এ আয়োজন শুধু লেনদেনকে সহজ করতেই ভূমিকা রাখবে না; বরং গ্রাহকদের সুরক্ষিত থাকা ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করবে।
প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ।
মোস্তাফিজুর রহমান: আপনাকেও ধন্যবাদ।