দেশে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা ১ কোটি ১ লাখ, অনলাইনেও বিক্রি হবে

কোরবানির পশুফাইল প্রথম আলো

এ বছর কোরবানির জন্য ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি পশুর সরবরাহ পাওয়া যাবে। সারা দেশে সাড়ে তিন হাজারের বেশি হাটে এসব পশু বিক্রি হবে। তবে চাহিদা রয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি পশুর।

পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন উপলক্ষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ আজ রোববার ঢাকায় সচিবালয়ে কোরবানির পশুর চাহিদা নিরূপণ, সরবরাহবিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, চাহিদার তুলনায় কোরবানিযোগ্য পশুর প্রাপ্যতা রয়েছে। ফলে এবার কোরবানির পশুর সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন, প্রাণিসম্পদসচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান প্রমুখ। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এসব তথ্য জানিয়েছে।

প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘এ বছর সম্ভাব্য চাহিদার বিপরীতে ২২ লাখের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। ফলে কোরবানির পশুর কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।’ তিনি জানান, এবার কোরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি গরু ও মহিষ, ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি ছাগল ও ভেড়া এবং ৫ হাজার ৬৫৫টি অন্যান্য প্রজাতির প্রাণী।

চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থান

সংবাদ সম্মেলনে প্রাণিসম্পদমন্ত্রী জানান, এবার সারা দেশে ৩ হাজার ৬০০টির বেশি পশুর হাট বসবে। রাজধানী ঢাকায় থাকবে ২৭টি হাট। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১টি হাট বসবে। এসব হাটে ২০টি ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম দায়িত্ব পালন করবে।

কোরবানির পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, হাট ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সাদা পোশাকেও সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

অনলাইনে পশু বিক্রি

দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্তবর্তী পশুর হাট বন্ধের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রাণিসম্পদমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে সীমান্তঘেঁষা কিছু হাটের মাধ্যমে বিদেশি পশু প্রবেশ করত। এতে দেশীয় খামারিরা ক্ষতির সম্মুখীন হন। এ পরিস্থিতি বন্ধে সীমান্ত এলাকায় হাট না বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আমিন উর রশিদ আরও বলেন, গত কয়েক বছরের মতো এবারও কোরবানির সময় অনলাইনে পশু বিক্রি হবে। এ জন্য কোনো খাজনা বা হাসিল নেওয়া হবে না। এ ছাড়া কোরবানির পশুর চামড়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য পেশাদার ও অপেশাদার কসাই এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।