স্মার্টফোন বেশি চট্টগ্রাম বিভাগে, ইন্টারনেট ব্যবহার বেশি ঢাকায়: বিবিএসের জরিপ

আজ বুধবার আগারগাঁওয়ের পরিসংখ্যান ভবনে আইসিটি বিষয়ক জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়ছবি: প্রথম আলো

দেশের প্রায় ৭৩ শতাংশ খানা বা পরিবারে স্মার্টফোন রয়েছে। বিভাগীয় হিসাবে ঢাকার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে চট্টগ্রাম। এই বিভাগের ৮৬ শতাংশ পরিবারে স্মার্টফোন আছে। ঢাকা বিভাগে এই হার ৮২ শতাংশ। তবে ইন্টারনেট ব্যবহারে ঢাকা বিভাগ এগিয়ে।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ এবং ব্যক্তি ও খানা পর্যায়ে ব্যবহার ২০২৪–২৫ শীর্ষক এ জরিপে এই প্রথম জেলাভিত্তিক বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার। জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন জরিপ প্রকল্পের পরিচালক সৈয়দা মারুফা শাকি।

বিবিএসের জরিপের তথ্য অনুযায়ী, স্মার্টফোন আছে, এমন পরিবারের দিক দিয়ে ফেনী শীর্ষে। এরপর আছে যথাক্রমে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, চাঁদপুর ও শরীয়তপুর। সবচেয়ে পিছিয়ে আছে গাইবান্ধা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, শেরপুর, ঝালকাঠি, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়।

স্মার্টফোনে পিছিয়ে থাকলেও ব্যক্তিপর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারে এগিয়ে আছে ঢাকা বিভাগ। ঢাকায় এই হার ৬৬ শতাংশ ও চট্টগ্রামে ৬৫ শতাংশ। জাতীয় পর্যায়ে ৫৫ শতাংশ পরিবারে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে।

সেমিনারে উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব পরিচালনা করেন বিবিএসের কম্পিউটার বিভাগের পরিচালক কবির উদ্দিন আহাম্মদ। ঢাকার চেয়ে চট্টগ্রামে স্মার্টফোন ব্যবহার বেশি কেন, এই প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেখানকার প্রবাসী–অধ্যুষিত এলাকায় মানুষের হাতে স্মার্টফোন বেশি। সেটা একটা কারণ হতে পারে।

ইন্টারনেটের ব্যবহার

ইন্টারনেট ব্যবহার করে মানুষ কী কাজ করে, সেই বিষয়টিও জরিপে উঠে এসেছে। জরিপে দেখা গেছে, দেশের ১১ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ অনলাইনে সেবা বা পণ্য কিনে থাকে। তবে ইন্টারনেট ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয় সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখার জন্য। ৬৪ শতাংশ ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি দেখার জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার হয়। এরপরেই ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে খেলাধুলার তথ্য জানতে ইন্টারনেটের ব্যবহার হয়।

জরিপে ডিজিটাল দক্ষতার বিষয়টিও উঠে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, জরিপে অংশ নেওয়া ৮৪ শতাংশ মানুষ কপি ও পেস্ট করতে পারে। ১৫ শতাংশ ব্যবহারকারী ফাইল স্থানান্তর করতে পারে। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মীর হোসেন ও মোহাম্মদ মাসুদ রানা চৌধুরী।