যুক্তরাষ্ট্রের গমের অষ্টম বৃহত্তম বাজার বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি গম খালাস অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।ছবি: প্রথম আলো

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, গত জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর মার্কিন গমের অষ্টম বৃহত্তম বাজারে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের গমের শীর্ষ ২৫ বাজারেও ছিল না বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি দুই দেশের বাণিজ্যঘাটতি নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আজ সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরে খাদ্য বিভাগের সাইলো জেটিতে ‘সেলিব্রেটিং ইউএস হুইট অ্যারাইভেল ইন বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এ মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকারিভাবে প্রায় ৫৭ হাজার টন গম আমদানি উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যঘাটতি কমাতে গত জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের গম রপ্তানিকারক সমিতি বা ইউএস হুইট সমিতির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করে সরকার। সমঝোতা চুক্তির আওতায় পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরওয়ারি প্রতিযোগিতামূলক দামে সাত লাখ টন গম আমদানি করা হবে। পাঁচ বছরে আনা হবে ৩৫ লাখ টন গম। বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা পাল্টা শুল্ক কমিয়ে আনতে সে সময় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং আজকের এই চালান আমাদের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সম্পর্কের এক মাইলফলক। মার্কিন গম কেনা আমেরিকান কৃষকদের পাশাপাশি বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও একটি বিজয়। বছরব্যাপী ক্রয়সীমার মধ্যে পুষ্টিকর খাবারপ্রাপ্তি বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আমরা জানি।’

অনুষ্ঠানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফিরোজ সরকার বলেন, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে যেসব গম আমদানি হয়েছে, সেগুলোর মান খুবই ভালো। এসব গমের আমিষ উপাদান প্রায় ১৪ শতাংশ। ভবিষ্যতে জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমরা আরও গম আমদানি করব। এর ফলে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের শুল্ক হ্রাসের কারণে জাতীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বে যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান ও খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (সংগ্রহ) মো. মনিরুজ্জামান।

অনুষ্ঠান শেষে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সাইলো জেটিতে লাইটার জাহাজ থেকে পাইপের সাহায্যে গম খালাসের প্রক্রিয়া পরিদর্শন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের কালামা বন্দর থেকে এমভি ক্লিপার ইসাডোরা জাহাজে ৫৭ হাজার ২০৩ টনের চালানটি বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায় ১৯ জানুয়ারি। প্রায় ২০০ মিটার লম্বা জাহাজটি সাইলো জেটিতে ভিড়তে না পারায় লাইটার জাহাজে স্থানান্তর করে সাইলো জেটিতে এনে খালাস করা হচ্ছে।  

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গমের এই চালান মোট ১ লাখ ৭৩ হাজার টনের বেশি একটি বৃহত্তম গম সরবরাহের অংশ। এর মধ্যে ওয়াশিংটন, ওরেগন এবং আইডাহো থেকে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টন হোয়াইট জাতের গম এবং মনটানা ও নেব্রাস্কা থেকে প্রায় ৬০ হাজার টন হার্ড রেড উইন্টার জাতের গম রয়েছে।

বাংলাদেশে বছরে গমের চাহিদার মাত্র ১৩ শতাংশ উৎপাদন করতে সক্ষম। বাকি গম আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয়। বছরে এর পরিমাণ ৬০–৬৫ লাখ টন।