‘স্বচ্ছতা ও সহনশীল শর্তই গাড়ির ঋণের মূল শক্তি’

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অটো লোন সুবিধা, স্বচ্ছতা, পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড যানবাহনে অর্থায়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এহতেশামুল হক খান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন শামসুল হক মো. মিরাজ

প্রথম আলো:

অটো লোনে দীর্ঘমেয়াদি কিস্তির সুবিধা গ্রাহকদের মূলধন ব্যবস্থাপনায় কীভাবে সহায়তা করছে?

এহতেশামুল হক খান: আমরা সব সময় গ্রাহকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই ঋণের কিস্তি নির্ধারণ করে থাকি। অটো লোনে দীর্ঘমেয়াদি কিস্তির সুবিধা থাকায় গ্রাহকদের মাসিক ঋণ পরিশোধের চাপ তুলনামূলকভাবে অনেক কমে আসে। ফলে গ্রাহককে এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় না করে একটি নির্দিষ্ট ও পূর্বনির্ধারিত মাসিক কিস্তির মাধ্যমে পছন্দসই গাড়ি কেনার সুযোগ তৈরি হয়।

বিশেষ করে চাকরিজীবী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে মাসিক আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিস্তি শোধের সুযোগ থাকায় তাঁদের ব্যক্তিগত নগদ প্রবাহ (ক্যাশ ফ্লো) আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়। একইভাবে ব্যবসায়ী গ্রাহকেরা তাঁদের ব্যবসার চলতি মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) বা দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় অক্ষুণ্ণ রেখেও স্বাচ্ছন্দ্যে গাড়ির অর্থায়ন করতে পারেন।

প্রথম আলো:

আপনারা ‘জিরো হিডেন চার্জ’-এর কথা বলছেন। লোন প্রসেসিং ও অন্যান্য ফির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা কীভাবে বজায় রাখেন?

এহতেশামুল হক খান: অটো লোনসহ যেকোনো ঋণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রযোজ্য নির্দেশনা ও অনুমোদিত চার্জ কাঠামো কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। আমাদের অনুমোদিত ও প্রকাশিত চার্জের বাইরে কোনো গোপন বা অপ্রকাশিত ফি আরোপ করা হয় না। কোনো গ্রাহক কার লোনের জন্য আবেদন করার আগেই প্রযোজ্য চার্জ, প্রসেসিং ফি, সুদের হার এবং অন্যান্য সব শর্ত সম্পর্কে স্পষ্টভাবে অবহিত করা হয়। স্বচ্ছতা ও আস্থার ভিত্তিতে গ্রাহকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সম্পর্ক গড়ে উঠছে।

প্রথম আলো:

নির্ধারিত সময়ের আগে লোন সম্পূর্ণ বা আংশিক পরিশোধ করতে চাইলে কোনো অতিরিক্ত জরিমানা বা পেনাল্টি ফি আছে কি?

এহতেশামুল হক খান: ঋণের আগাম সম্পূর্ণ বা আংশিক পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্তাবলি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা করা হয়। বর্তমানে নির্ধারিত সময়ের আগে সম্পূর্ণ বা আংশিক পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রদেয় টাকার ওপর দশমিক ৫ শতাংশ ফি প্রযোজ্য হয়।

প্রথম আলো:

বিশাল শাখা ও এজেন্ট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ঢাকার বাইরের শহরের গ্রাহকদের কীভাবে অটো লোনের আওতায় আনছেন?

এহতেশামুল হক খান: আমরা প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকদের কাছেও কার লোন সেবা পৌঁছে দিচ্ছি। সম্প্রতি ঢাকার বাইরেও

বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের গাড়ির শোরুম চালু হচ্ছে, ফলে সেখানেও গাড়ি কেনার একটি বড় চাহিদা আছে। একই সঙ্গে লোন নিয়ে গাড়ি কেনার প্রবণতাও সেখানে বাড়ছে।

দেশের বিস্তৃত অঞ্চলে আমাদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক থাকায় গ্রাহকেরা খুব সহজেই লোনের জন্য আবেদন করতে পারছেন। আমাদের ২৪৩টি শাখা, ৩৫০টি উপশাখা এবং ৫ হাজার ৬২০টি এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে দ্রুত প্রসেসিং নিশ্চিত করে রাজধানীর বাইরের গ্রাহকদের জন্যও সহজ ও সুবিধাজনক অর্থায়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে।

প্রথম আলো:

গ্রিন অর্থায়নের নীতিমালার অধীন ইভি গাড়ির প্রসারে আগামী দিনে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

এহতেশামুল হক খান: বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন ফাইন্যান্স নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতে ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) অর্থায়ন আরও সম্প্রসারণ, প্রতিযোগিতামূলক অর্থায়ন কাঠামো প্রবর্তন, ডিলার পার্টনারশিপ বৃদ্ধি এবং গ্রাহকদের জন্য আরও সহজ ও দ্রুত ঋণসেবা প্রদানের লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।