বিমা খাতে কিছু অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা রয়েছে। সেখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হলে আইডিআরএর ভূমিকা দরকার। অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে বেসরকারি বিমা খাতকে নন-ট্যারিফ মার্কেটে আসা উচিত। আমরা প্রত্যেকে আমাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ব্যবসা করব। সাধারণ বীমা করপোরেশনকে শতভাগ পুনর্বিমা (রি-ইনস্যুরেন্স) প্রতিষ্ঠান করা হোক। সরকারের যে ব্যবসা-বাণিজ্য আছে, তা সাধারণ বীমা করপোরেশন করুক। সরকারি ব্যবসার যে অর্ধেক বেসরকারি খাতে দেওয়া হয়, তা-ও দেওয়ার কোনো দরকার নেই। 

সাধারণ বীমা করপোরেশনের সঙ্গে বেসরকারি নন-লাইফ বিমা কোম্পানির পুনর্বিমা করার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা আরও সহজ করা প্রয়োজন। এখন আমাদের বিদেশে পুনর্বিমা করার সুবিধা হলো ৫০ শতাংশ। এখানেও একটা লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যেটা অগ্নিতে ৪০০ কোটি টাকা, নৌ-কার্গোতে ১০০ কোটি টাকা, নৌ-হাল ৩০ কোটি টাকা এবং বিবিধ ২০ কোটি টাকার ওপরে গেলে (একক ঝুঁকিতে) বিদেশ থেকে ‘রেট’ আনা যাবে। 

নন-ট্যারিফ মার্কেট হলে যেকোনো পরিমাণ টাকার ওপর বিদেশের মার্কেট থেকে রেট আনা যাবে। ট্যারিফ না থাকলে অসুস্থ প্রতিযোগিতাও কমে আসবে। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে নন-লাইফ বিমা কোম্পানিকে ট্যারিফ দিয়ে আবদ্ধ করা উচিত নয়। তাতে যেটা হবে, বিমা গ্রাহকদের স্বল্প প্রিমিয়াম হারে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে বিমাসেবা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। 

এ ছাড়া প্রিমিয়াম জমার যে নিয়ম আছে, সেটাকে বাড়িয়ে এক মাসের গ্রেস পিরিয়ড করে দিতে হবে। কারণ, সুবিধা দিতে হবে আমাদের গ্রাহকদের। এক মাস সময় দেওয়ার পরও যদি কেউ প্রিমিয়াম জমা না দেন, তাহলে তাঁকে জরিমানা হিসেবে পরবর্তী কার্যদিবসের জন্য মাশুল (চার্জ) ধার্য করা যেতে পারে। নন-ট্যারিফ মার্কেট ও প্রিমিয়াম জমার জন্য এক মাসের গ্রেস পিরিয়ড যদি দেওয়া হয়, তাহলে বিমা খাতকে একটি সুশৃঙ্খল অবস্থায় আনা যাবে।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি