গতকাল শনিবার মতিঝিলে ডিসিসিআই অডিটরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নতুন এই সভাপতি আরও বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস সরকার কীভাবে দেবে, সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। দাম বাড়ানোর পরে এটা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বাড়তি দাম দিয়ে হলেও গ্যাস কিনে শিল্পপ্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে চান, যাতে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।’

দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে নতুন বছরে ডিসিসিআইয়ের পরিকল্পনা নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প রক্ষা, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ, শিল্পবান্ধব নীতি-সহায়তা, কর কাঠামোর সংস্কার, কূটনৈতিক অর্থনীতি থেকে শুরু করে স্মার্ট বাংলাদেশের মতো বিষয় এই সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে। তবে ডলার–সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ ও গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে শিল্পের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

সামীর সাত্তার বলেন, শিল্প খাতের যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে, তাতে করে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সময়ে সময়ে সরকারকে নীতি-সহায়তা দিতে হবে। অন্যথায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হবে।
ডিসিসিআই সভাপতির মতে, নতুন বছরে চ্যালেঞ্জ হবে অনেক, তাই দু–একটি সমস্যার সমাধান করে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার মতো পরিস্থিতিতে এখন আর নেই। তিনি বলেন, যখন দরকার হবে, আমরা সেভাবেই নীতি-সহায়তা চাইব। এখন যে অবস্থা, তাতে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান চাইবে কর্মী ছাঁটাই করে টিকে থাকতে। আবার কেউ চাইবে কর্মী ছাঁটাই না করে মুনাফা কমিয়ে টিকে থাকতে। আমরা এটাই চাই। সে জন্য সরকারি নীতি-সহায়তার বিকল্প নেই।

নতুন মুদ্রানীতিতে ডলার–সংকটের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে সামীর সাত্তার বলেন, ‘দেশে পর্যাপ্ত ডলার পাওয়া যাচ্ছে না। সে ক্ষেত্রে আমাদের দাবি থাকবে, প্রবাসীদের আরও প্রণোদনা দেওয়া হোক। তারা বৈধ পথে অর্থ দেশে পাঠাক। তাহলে রিজার্ভের ওপর চাপ কমবে। আর রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে যাতে সংকট না হয়, সে জন্য এসব পণ্যের ঋণপত্রের মার্জিন কমিয়ে হলেও পণ্য আমদানি সহজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এলডিসি গ্রাজুয়েশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেন ডিসিসিআই সভাপতি। এ সময় তিনি তরুণদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা, কর কাঠামোর সংস্কার, এনবিআরকে দ্রুত অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসা, ব্যাংক খাতের সংস্কার, অর্থ পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনা ও রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে অর্থনৈতিক কূটনীতি আরও জোরদার করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

পাশাপাশি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য পর্যাপ্ত ঋণের ব্যবস্থা করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি এম এম গোলাম ফারুক আলমগীর, সহসভাপতি মো. জুনায়েদ ইবনে আলীসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।