ডিজিটাল দুনিয়ায় জেন–জি: ব্যাংক কার্ড যেভাবে হয়ে উঠছে ‘মানিব্যাগ’
যাদের জন্ম ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে, তারা ‘জেনারেশন জেড’ বা ‘জেন–জি’ হিসেবে পরিচিত। মিলেনিয়ালদের পরের এই প্রজন্ম ইন্টারনেটের সঙ্গে বেড়ে উঠেছে। এই বয়সী তরুণ–তরুণীদের আধুনিক জীবনযাত্রার বড় একটা অংশজুড়ে রয়েছে ‘প্লাস্টিক মানি’ বা ব্যাংক কার্ড। মানিব্যাগে টাকা রাখার চেয়ে একটা কার্ডে পুরো পৃথিবী পকেটে নিয়ে ঘোরাটাই তাদের কাছে স্বস্তির ও নিরাপদ। কেনাকাটা থেকে শুরু করে যেকোনো ধরনের পেমেন্ট—ক্যাশ গোনার ঝামেলা এড়িয়ে ব্যাংক কার্ডেই তাদের নির্ভরতা।
প্রযুক্তিবান্ধব প্রজন্মের ‘স্মার্ট’ লেনদেন
জেন–জিরা স্বভাবে ও কাজে বেশ চটপটে। ইন্টারনেট ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে তারা বেশি স্বাচ্ছন্দ্য। সময়ের সঠিক ব্যবহার আর দ্রুত সব কাজ সারতে চাওয়া এই প্রজন্মের কাছে কার্ড এখন শুধু লেনদেনের মাধ্যম নয়; বরং যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সমাধান পাওয়ার এক বড় ভরসা, যা স্মার্ট বিনিয়োগ হিসেবেও প্রতিনিয়ত হয়ে উঠছে অপরিহার্য।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রজন্মের তরুণেরা এখন আর ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করতে রাজি নন। তাঁরা চান, সব হবে চোখের পলকে। স্মার্টফোনের অ্যাপ দিয়ে নিজের খরচ নিয়ন্ত্রণ করা আর কেনাকাটায় ক্যাশব্যাক বা ডিসকাউন্টের মতো সুবিধার কারণে কার্ডের দিকে বেশি ঝুঁকছেন তাঁরা। কেবল ফ্যাশন নয়; বরং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও জেন–জিরা নগদ টাকার বদলে কার্ড ব্যবহারকেই বেশি কার্যকর ও সময়–সাশ্রয়ী বলে মনে করছে।
প্রজন্মের সীমানা ছাড়িয়ে ডিজিটাল বিপ্লব
বেড়ে ওঠার শুরু থেকেই ইন্টারনেট ব্যবহারের অবাধ সুবিধা পেয়েছে জেন–জিরা। ফলে ব্যাংকিং খাতের নতুন সব উদ্ভাবন, স্মার্ট কার্ড থেকে শুরু করে বায়োমেট্রিক ফিচার—সবকিছুর সুফল সবচেয়ে বেশি ভোগ করছে এই প্রজন্ম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিবিমুখ আগের প্রজন্মকেও ডিজিটাল ব্যাংকিং ও এআইয়ের দুনিয়ায় অভ্যস্ত করতে তারা ভূমিকা রাখছে। তাদের হাত ধরেই পরিবারের মিলেনিয়াল বা তারও আগের প্রজন্ম ধীরে ধীরে স্মার্ট কার্ড বা পিনবিহীন লেনদেনে আগ্রহী ও অভ্যস্ত হয়ে উঠছে।
আন্তর্জাতিক পেমেন্ট জায়ান্ট মাস্টারকার্ডের চিফ প্রোডাক্ট অফিসার জর্ন ল্যাম্বার্টের মতে, বর্তমান সময়ের গ্রাহকেরা সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে পছন্দ করেন। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, পরিবর্তনের এই ধারায় জেন–জি হয়তো পথ দেখাচ্ছে, তবে ব্যক্তিগত পছন্দের এই চাহিদা এখন সব প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে।
ল্যাম্বার্টের কথার প্রতিফলন হিসেবেই দেখা যাচ্ছে, বড় কোনো সামাজিক পরিবর্তনের মতো ব্যাংকিং খাতের পরিবর্তনেও জোরালো ভূমিকা রাখছে জেন–জিরা।
প্রযুক্তির মেলবন্ধনে আগামী দিনের ব্যাংকিং
আর্থিক খাতে ডিজিটাল এই রূপান্তর কেবল লেনদেনের মাধ্যম পরিবর্তন করেনি, সঙ্গে বদলে দিয়েছে আমাদের জীবনযাত্রার ধরনও। জেনারেশন জেডের হাত ধরে শুরু হওয়া এই বিপ্লব এখন আর নির্দিষ্ট কোনো বয়সের ফ্রেমে বন্দী নেই। এটি হয়ে উঠেছে অন্তর্ভুক্তিমূলক এক আধুনিক সমাজব্যবস্থার ভিত্তি। প্রযুক্তির এই সহজলভ্যতা আর নিরাপত্তার মিশেলে আগামী দিনের ব্যাংকিং হবে আরও বেশি মানবিক ও ব্যক্তিগত, এমনটিই অভিমত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।
এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো, প্রযুক্তি যেন মানুষের দাস না হয়ে বরং অকৃত্রিম বন্ধু হয়ে ওঠে। যার মাধ্যমে পুরো পৃথিবী চলে আসবে হাতের মুঠোয়। এই ডিজিটাল সেতুবন্ধই ইঙ্গিত দিচ্ছে, সামনের দিনগুলোয় ব্যাংকিং হবে আরও স্মার্ট, আরও সাহসী।