সাক্ষাৎকার: আদনান মাহমুদ আশরাফ উজ জামান
যমুনা ব্যাংকের কার্ড শুধু একটি পেমেন্ট টুল নয়, পূর্ণাঙ্গ লাইফস্টাইল সলিউশন
ক্যাশলেস লেনদেনের মাধ্যমে জীবনকে গতিশীল, নিরাপদ ও সহজ করার অন্যতম মাধ্যম ব্যাংক কার্ড। গ্রাহকদের সহজ ও ঝামেলাহীন লেনদেনে অভ্যস্ত করতে প্রথম আলো ডটকম তৃতীয়বারের মতো করেছে ‘ব্যাংক কার্ড আয়োজন’। এতে অংশ নিয়েছে যমুনা ব্যাংক পিএলসি। আয়োজন ঘিরে প্রত্যাশা এবং নিজেদের আধুনিক কার্ড সেবার নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন ব্যাংকটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং হেড অব কার্ড অ্যান্ড এডিসি আদনান মাহমুদ আশরাফ উজ জামান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারেক মাহমুদ নিজামী।
প্রথম আলো: প্রথম আলো ডটকম তৃতীয়বারের মতো করেছে ‘ব্যাংক কার্ড আয়োজন’। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আপনাদের প্রত্যাশা কী?
আদনান মাহমুদ: আয়োজনটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। আমাদের প্রত্যাশা, এমন উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাহকদের কার্ডের সঠিক ব্যবহার ও সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংক ও গ্রাহকের মধ্যে আস্থা ও স্বচ্ছতা জোরদার হবে।
প্রথম আলো: বর্তমানে আপনাদের ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডগুলোয় গ্রাহকদের জন্য বিশেষ কী কী সুবিধা বা রিওয়ার্ড অফার রয়েছে?
আদনান মাহমুদ: যমুনা ব্যাংকের কার্ডকে আমরা কেবল একটি পেমেন্ট টুল নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ লাইফস্টাইল সলিউশন হিসেবে গড়ে তুলছি। আমাদের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডে বর্তমানে সুপারশপ, রেস্টুরেন্ট ও হাসপাতালে আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট–সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকেরা পাচ্ছেন শূন্য (০) শতাংশ থেকে স্বল্প সুদে ইএমআই–সুবিধা। ভ্রমণের ক্ষেত্রে আমরা আন্তর্জাতিক লেনদেনে প্রতিযোগিতামূলক চার্জ নিশ্চিত করছি। আর ডেবিট কার্ড ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে গ্রাহকদের জন্য রেখেছি প্রতিটি উৎসবে বিশেষ ক্যাম্পেইন ও আকর্ষণীয় অফার উপভোগের সুবিধা।
প্রথম আলো: অনলাইন কেনাকাটা এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে আপনাদের কার্ডগুলো গ্রাহকের কতটা আস্থা অর্জন করতে পারছে?
আদনান মাহমুদ: বর্তমানে ই-কমার্স ও আন্তর্জাতিক পেমেন্টের চাহিদা বাড়ায় যমুনা ব্যাংকের কার্ডে বহুমুখী সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য আমাদের কার্ডগুলোয় রয়েছে ডুয়াল কারেন্সি সাপোর্ট এবং ২৪/৭ ডেডিকেটেড কাস্টমার সাপোর্ট। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, গ্রাহকেরা ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী নিজেদের প্রয়োজনমতো অনলাইন বা আন্তর্জাতিক লেনদেনের লিমিট নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, যা যমুনা ব্যাংকের কার্ডকে করে তুলেছে আরও নির্ভরযোগ্য।
প্রথম আলো: গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তায় আপনাদের ব্যাংকের কার্ডে কোন ধরনের শক্তিশালী প্রযুক্তি বা সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে?
আদনান মাহমুদ: গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই কার্ডে রয়েছে এনএফসিভিত্তিক ইএমভি চিপ প্রযুক্তি, থ্রিডি সিকিউর, ফ্রড ও সন্দেহজনক লেনদেনে উন্নত মনিটরিং, তাৎক্ষণিক এসএমএস অ্যালার্ট, কার্ড ব্লক/আনব্লক সুবিধা, লেনদেন সীমা নিয়ন্ত্রণ, অনলাইন/আন্তর্জাতিক অন-অফ কার্ড নিয়ন্ত্রণ এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপে ব্যাংকের সঙ্গে গ্রাহকের সরাসরি যোগাযোগ। সব মিলিয়ে যমুনা ব্যাংকের প্রতিটি লেনদেন এখন আরও নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য।
প্রথম আলো: যমুনা ব্যাংকের কার্ডে ডুয়াল কারেন্সি সুবিধা অন্যান্য ব্যাংকের সাধারণ কার্ডের অফারগুলোর থেকে কীভাবে আলাদা? এই সুবিধা গ্রাহকদের আন্তর্জাতিক লেনদেনকে কতটা সহজ করছে?
আদনান মাহমুদ: আমাদের ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকেরা একই কার্ডে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক লেনদেন করতে পারেন। এর মাধ্যমে দ্রুত আন্তর্জাতিক পেমেন্ট করা যায়, অনলাইন সাবস্ক্রিপশন ও ট্রাভেল বুকিং সহজ হয়, আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিশন ফি প্রদান করা যায় এবং বৈদেশিক লেনদেনে স্বচ্ছ চার্জ কাঠামো নিশ্চিত থাকে। ফলে এটি আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী ও লেনদেনকারীদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি সমাধান।
প্রথম আলো: আপনারা কিছু কার্ডে বিমানবন্দর লাউঞ্জ অ্যাকসেসসহ অন্যান্য ট্রাভেল-ফোকাসড বেনিফিট দেন। এ ধরনের প্রিমিয়াম সুবিধা গ্রাহকদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ও ব্যাংকের ব্র্যান্ড-লয়ালিটি বাড়াতে কীভাবে সাহায্য করছে?
আদনান মাহমুদ: যমুনা ব্যাংকের প্রিমিয়াম কার্ডধারীরা দেশের প্রধান বিমানবন্দরগুলোর লাউঞ্জ—বলাকা এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জসহ আন্তর্জাতিকভাবে ১ হাজার ৮০০–র বেশি লাউঞ্জ কি, প্রায়োরিটি পাস লাউঞ্জে প্রবেশাধিকার পান। ফলে ভ্রমণ হয় আরও আরামদায়ক, অভিজ্ঞতা হয় প্রিমিয়াম। আর এতে ব্যাংকের ব্র্যান্ড ভ্যালু ও গ্রাহক লয়ালিটি বৃদ্ধি পায়।
প্রথম আলো: যমুনা ব্যাংকের প্রিপেইড কার্ডগুলো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছাড়াই ব্যবহার করার সুযোগ থাকে। এটা গ্রাহকদের জন্য কি নতুন ধরনের সুবিধা এনে দিয়েছে?
আদনান মাহমুদ: এটি যমুনা ব্যাংকের প্রিপেইড কার্ডের বড় সুবিধা, যা ভ্রমণকারীদের জন্য নিরাপদ বিকল্প। এটি নিয়ন্ত্রিত অ্যামাউন্ট ব্যবহারের সুযোগ দেয় এবং ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের জন্য কার্যকর পেমেন্ট কার্ড হিসেবে কাজ করে। ফলে ডিজিটাল ফাইন্যান্সে অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এ কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রথম আলো: গ্রাহকদের সচেতন করতে এবং স্মার্ট লেনদেনে উৎসাহ দিতে প্রথম আলো ডটকমের ‘অনলাইন ব্যাংক কার্ড আয়োজন’ কেমন ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন?
আদনান মাহমুদ: এ ধরনের আয়োজন গ্রাহকদের কার্ড ব্যবহারে আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যমুনা ব্যাংক মনে করে, এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম কার্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও গ্রাহকসেবা তুলে ধরার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ।
আদনান মাহমুদ: আপনাকেও ধন্যবাদ।