সবজি, মুরগি, ডিমের দাম কত বাড়ল
খুচরা বাজারে বেশ কিছুদিন ধরে সোনালি মুরগি, সয়াবিন তেল ও সুগন্ধি চালের দাম বাড়তি। এসব পণ্যের সরবরাহ–সংকটও রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে কয়েক ধরনের সবজি ও ফার্মের মুরগির ডিমের দাম বেড়েছে।
খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সরবরাহ–সংকটের কারণ দেখিয়ে গত এক-দুই মাসে ধাপে ধাপে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত ব্যবসায়ীরা। কিন্তু কাছাকাছি সময়ে অনেকগুলো পণ্যের দাম বাড়ায় খরচ নিয়ে চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও শেওড়াপাড়া বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
আমি সাধারণত প্যাকেটের সুগন্ধি চাল কিনি; কিন্তু দুই মাস আগের তুলনায় সপ্তাহের বাজার খরচ ৩০০-৪০০ টাকা বেড়েছে। এ জন্য ব্যয় কিছুটা কমানোর জন্য খোলা সুগন্ধি চাল কিনেছি।সামিউল আলম, বেসরকারি চাকরিজীবী
সরেজমিন দেখা গেছে, বাজারে সোনালি ও ব্রয়লার মুরগি এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এর সঙ্গে চলতি সপ্তাহে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম বেড়েছে। গতকাল রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৮০-৩৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর কালার বার্ড বা হাইব্রিড সোনালি বিক্রি হয়েছে ৩৫০-৩৬০ টাকায়। এই দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০-৩০ টাকা কম। যদিও মাসখানেক আগে সোনালি মুরগি ২৮০-৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সে হিসেবে এখনো চড়া দামেই সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লারের দামও চড়া; কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২০০ টাকায়। রোজার আগে ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
এদিকে গত তিন-চার দিনের ব্যবধানে বাজারে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা বেড়েছে। দাম বাড়ার পর গতকাল এক ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১১০-১২০ টাকায়। ডিমের আকার বড় হলে দাম পড়ছে ১৩০ টাকা।
এখন গ্রীষ্ম মৌসুমের সবজি বাজারে আসা শুরু হয়েছে। সাধারণত এ সময় নতুন সবজির দাম কিছুটা বেশি থাকে। আবার শীতের কিছু সবজির সরবরাহ কমায় সেগুলোর দামও বাড়তি। গত এক-দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে লাউ, বেগুন, কাঁকরোল, পেঁপে, টমেটো, চিচিঙ্গা প্রভৃতি সবজির দাম বেড়েছে। বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম কাঁকরোলের; কেজি ১২০-১৪০ টাকা। এ ছাড়া বরবটি, পটোল, করলা, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, বেগুন প্রভৃতি সবজির দাম ৮০ টাকা বা তার চেয়ে বেশি। আগে প্রতিটি লাউ ৪০-৬০ টাকায় কেনা যেত, যা এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। অবশ্য দাম কম রয়েছে কাঁচা মরিচ ও আলুর।
সয়াবিন তেলের সংকট কাটেনি
গত দুই মাসেও বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ–সংকট কাটেনি। গতকাল কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজারে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ মুদিদোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল তেমন একটা নেই। ফলে ক্রেতারাও তাঁদের চাহিদা অনুসারে বোতলের সয়াবিন তেল কিনতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে দামও বেশি দিতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকে আবার খোলা সয়াবিন কেনা বাড়িয়েছেন। এই তেলের দামও গত এক মাসে লিটারে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে।
বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম কাঁকরোলের; কেজি ১২০-১৪০ টাকা। এ ছাড়া বরবটি, পটোল, করলা, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, বেগুন প্রভৃতি সবজির দাম ৮০ টাকা বা তার চেয়ে বেশি। আগে প্রতিটি লাউ ৪০-৬০ টাকায় কেনা যেত, যা এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। অবশ্য দাম কম রয়েছে কাঁচা মরিচ ও আলুর।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কথা বলে কয়েক দিনে একাধিকবার ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানার মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। সর্বশেষ গত রোববার এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন, এটা স্বাভাবিক। তবে জনগণের কথা ভেবে আপাতত ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে না। যদিও ওই বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দাম না বাড়িয়ে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের শুল্কছাড় দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। তবে এসব আলাপ-আলোচনার মধ্যে বাজারে বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ বাড়ায়নি কোম্পানিগুলো।
চিনিগুঁড়া চালের দাম বেড়েছে
বাজারে সুগন্ধি তথা পোলাওয়ের চালের দাম আরও বেড়েছে। ব্রি-৩৪ ধান থেকে এই চাল তৈরি হয়। সাধারণত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নতুন সুগন্ধি চাল বাজারে আসতে শুরু করে। তখন দাম কিছুটা কমার কথা; কিন্তু এবার সুগন্ধি চালের দাম বাড়তি।
সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সুগন্ধি চালের কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৯০ থেকে ১৩০ টাকা। এক বছরে দাম বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ। এটি মূলত খোলা সুগন্ধি চালের দাম।
বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির মোড়কজাত সুগন্ধি চাল বিক্রি হয়। কালিজিরা ও চিড়িগুঁড়া ধরনের সুগন্ধি চালের এক কেজির প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে কোম্পানিভেদে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায়। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহ থেকে মোড়কজাত সুগন্ধি চালের দাম আরেক দফা কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। অবশ্য নতুন দামের চাল এখনো সব দোকানে আসেনি। বিক্রেতারা জানান, গত চার মাসে তিন দফায় সুগন্ধি চালের দাম ৫০-৬০bটাকা বেড়েছে।
সুগন্ধি চালের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কোম্পানিগুলো সরাসরি কথা বলতে চায়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি কোম্পানির একজন কর্মকর্তা বলেন, সাধারণত বছরে ১৬ থেকে ১৮ লাখ টন সুগন্ধি চাল উৎপাদিত হয়। কিন্তু এ বছর ৬-৭ লাখ টন উৎপাদন কমেছে। এ কারণে সরবরাহ-সংকট থেকে বাজারে ব্রি-৩৪ ধান ও সুগন্ধি চালের দাম বাড়তি।
বেসরকারি চাকরিজীবী সামিউল আলম সর্বশেষ ঈদের আগে সুগন্ধি চাল কিনেছিলেন। গতকাল রাজধানীর টাউন হল বাজারে তিনি আবার সুগন্ধি চাল কিনতে যান। তিনটি দোকানে ঘুরে দেখেন মোড়কজাত সুগন্ধি চালের দাম আগের তুলনায় কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। পরে চার কেজি খোলা সুগন্ধি চাল কেনেন তিনি। জানতে চাইলে সামিউল আলম বলেন, ‘আমি সাধারণত প্যাকেটের সুগন্ধি চাল কিনি; কিন্তু দুই মাস আগের তুলনায় সপ্তাহের বাজার খরচ ৩০০-৪০০ টাকা বেড়েছে। এ জন্য ব্যয় কিছুটা কমানোর জন্য খোলা সুগন্ধি চাল কিনেছি।’