রাজধানীর ধানমন্ডি ৭ নম্বর এলাকার মুদিদোকানে চিনি খুঁজছিলেন নাফিউল আলম নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হুট করে চিনির দাম বাড়ল, এখন আবার তা পাওয়াও যাচ্ছে না। মাসে দু-তিন কেজি চিনি লাগে। সেটা পেতেই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) হিসাবে, দেশে বছরে চিনির চাহিদা ১৮ থেকে ২০ লাখ মেট্রিক টন। এই চিনির প্রায় পুরোটা বিদেশ থেকে আমদানি করে পরিশোধন করা হয়। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত চিনি ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আগে থেকেই চিনির দাম বাড়ছিল। তবে দুই সপ্তাহ আগে থেকে সরবরাহে ঘাটতি শুরু হয়।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, বাজারে এখন প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়। এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা। সব মিলিয়ে এক মাসে চিনির দাম বেড়েছে প্রায় ২৯ শতাংশ।

চিনি পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো বলছে, সরবরাহে এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে গ্যাসের অভাব ও লোডশেডিংয়ের কারণে। কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম ঠিকভাবে চালানো যাচ্ছে না।

চিনি উৎপাদনকারী শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক এস এম মুজিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কারখানায় যে পরিমাণ চিনি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে, তার পুরোটাই সরবরাহ করা হচ্ছে। কারখানায় কোনো স্টক (মজুত) নেই।

চিনি উৎপাদনকারীদের পক্ষ থেকে রাজধানীতে ট্রাকে করে প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি শুরু হয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে এই চিনি প্রতি কেজি ৯৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। যদিও সবার পক্ষে বড় বাজারে গিয়ে চিনি কেনা সম্ভব নয়।

এখন চিনি পেতে আলাদা করে দোকানিকে বলে রাখতে হচ্ছে। রাজধানীর ইন্দিরা রোডের হক ভ্যারাইটি স্টোরের মালিক আবুল বাসার প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিন সপ্তাহ ধরে বলতে গেলে চিনিই পাচ্ছি না। দু-এক বস্তা পাই, সেটা বিক্রি করি। শেষ হলে আবার অপেক্ষায় থাকি, কখন চিনি আসবে। এ জন্য নিয়মিত যাঁরা ক্রেতা, তাঁদেরই চিনি দিচ্ছি।’