ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি আমাদের মতো শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দুইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। প্রথমত, বিক্রীত পণ্যের বিপরীতে বড় ধরনের লোকসানে ফেলেছে। আবার এখন নতুন করে আমদানি করতে গিয়ে বাড়তি অর্থের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। অথচ ব্যাংক থেকে আমরা এখন না পাচ্ছি প্রয়োজনীয় ঋণপত্র খোলার সুবিধা, না পাচ্ছি বাড়তি ঋণ। আগে ব্যাংক যদি আমাদের ১০০ কোটি টাকা ঋণ দিত, এখন দিচ্ছে ৭৫ কোটি টাকা। অথচ আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় এখন আমাদের দরকার আগের চেয়ে বেশি ঋণ। বর্তমানে বাড়তি ঋণসুবিধা তো পাচ্ছিই না, কাঁচামাল আমদানির ঋণপত্র খুলতেও বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এমনিতে চলমান পরিস্থিতিতে লোকসানে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছি। তার মধ্যে ঋণপত্র খুলতে না পারার বিষয়টি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে। 

নতুন করে আমদানির যে ঋণপত্র খোলা হচ্ছে, তার বেশির ভাগই ইউপাস ঋণপত্র। অর্থাৎ এক বছর পরে দায় পরিশোধ করতে হবে। এক বছর পর যখন দায় পরিশোধের সময় আসবে তখন যদি ডলারের দাম আরও বেড়ে যায় তাহলে বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হবে। তাতে অনেক কোম্পানি মূলধন–সংকটে পড়বে। তা সত্ত্বেও বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা ব্যবসা টিকিয়ে রাখছি। একে তো ডলার–সংকট, তার সঙ্গে রয়েছে গ্যাস-বিদ্যুতের স্বল্পতা। এতে উৎপাদন অনেক কমে গেছে, আর বেড়েছে উৎপাদন খরচ। কিন্তু উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বাজারে সিমেন্ট, রডসহ বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। 

এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের কিছুটা সুরক্ষা বা স্বস্তি দিতে সরকার নতুন করে প্রণোদনা ঘোষণা করতে পারে। করোনার সময় স্বল্প সুদে দেওয়া সরকারি প্রণোদনা ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়াতে বড় ধরনের সহায়তা করেছে। সেটি করা না হলে এত দিনে অনেক ব্যবসায়ীকে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে হতো। ডলার–সংকট কাটাতে বাজারে ডলারের জোগান বাড়াতে গিয়ে প্রায় লাখ কোটি টাকার বেশি বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে চলে গেছে। সেখান থেকে ব্যবসায়ীদের জন্য যদি কিছু প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় তাহলে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বল্পমেয়াদি ঋণকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তাতে শিল্পোদ্যোক্তারা কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন।