সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ফেয়ার টেকনোলজির ব্যবসাপ্রধান অরিন্দম চক্রবর্তী, ফেয়ার গ্রুপের কমিউনিকেশন প্রধান হাসনাইন খুরশেদ, বিপণনপ্রধান জে এম তসলীম কবির, ফেয়ার টেকনোলজির বিক্রয়প্রধান আবু নাসের মাহমুদ, প্রোডাক্ট ম্যানেজার রুবাইয়াত উদ্দিন, সেলস অপারেশন ম্যানেজার আতাউর রহমান প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে ফেয়ার টেকনোলজির পরিচালক মুতাসসিম দায়ান বলেন, ‘আমাদের বহুদিনের স্বপ্ন ছিল দেশে তৈরি গাড়ি দেশের মাটিতে চলবে। অবশেষে এটা পূরণ হতে চলেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে হুন্দাইয়ের ক্রেটা মডেলের গাড়ি দিয়ে এ যাত্রা শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে আমাদের উৎপাদন কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করা হবে।’

ক্রেটা ব্র্যান্ডের নতুন গাড়িটির দাম ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু হবে বলে জানান মুতাসসিম দায়ান। এ ক্ষেত্রে একই ধরনের আমদানি করা গাড়ির তুলনায় প্রায় ৮–১০ লাখ টাকা কম দামে গাড়িটি কিনতে পারবেন গ্রাহকেরা। মুতাসসিম দায়ান বলেন, হুন্দাই ক্রেটার গ্রাহকেরা পাঁচ বছর বা এক লাখ কিলোমিটার মাইলেজ পর্যন্ত ওয়ারেন্টি সুবিধা পাবেন, যা আমদানিকৃত গাড়ির ক্ষেত্রে সাধারণত তিন বছর দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ক্রেটার গ্রাহকদের আস্থা বাড়াতে বাই–ব্যাক সুবিধা চালু করছে ফেয়ার টেকনোলজি। এই সুবিধার আওতায় একজন গ্রাহক একটি নির্দিষ্ট সময় পরে তাঁর গাড়িটি বিক্রি করতে চাইলে বিক্রেতা কোম্পানি তা নির্দিষ্ট দামে কিনে নেবে।

হুন্দাইয়ের ক্রেটা গাড়ির ক্ষেত্রে ৩ বছর বা ৪০ হাজার কিলোমিটার মাইলেজের মধ্যে ক্রয়মূল্যের সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত দামে বাই–ব্যাক সুবিধা রেখেছে ফেয়ার টেকনোলজি। অর্থাৎ এই সময় বা মাইলেজের মধ্যে কেউ তাঁর গাড়িটি বিক্রি করতে চাইলে কেনা দামের ৬০ শতাংশ মূল্যে তিনি সেটি বিক্রি করতে পারবেন।

দেশে সাধারণত নতুন গাড়ি কিছুদিন ব্যবহারের পর কেউ বিক্রি করতে চাইলে ভালো দাম পাওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে হুন্দাইয়ের দেশে তৈরি গাড়িটি কিছুটা ব্যতিক্রম হবে। ফেয়ার টেকনোলজির কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাই–ব্যাক সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহৃত গাড়িটি বিক্রি করেও ক্রেতারা লাভবান হবেন।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে গত বৃহস্পতিবার ক্রেটা মডেলের হুন্দাই গাড়ির আনুষ্ঠানিক উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়। শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন নতুন এ গাড়ির উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে দেশে হুন্দাইয়ের গাড়ি নির্মাণ কারখানারও উদ্বোধন করা হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানি হুন্দাই করপোরেশন ও বাংলাদেশের ফেয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ফেয়ার টেকনোলজির যৌথ উদ্যোগে ছয় একর জায়গায় দুটি শিল্প প্লটের ওপর কারখানাটি তৈরি হয়েছে। এতে সম্পূর্ণ বিনিয়োগ করেছে ফেয়ার টেকনোলজি। আর প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে তাদের কৌশলগত অংশীদার হয়েছে হুন্দাই মোটর গ্রুপ। কারখানাটিতে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় তিন শ লোকের।

ফেয়ার টেকনোলজির কর্মকর্তারা মনে করেন, দেশের প্রচলিত নীতিমালা অনুসারে হুন্দাইয়ের কারখানাকে উৎপাদনমুখী কারখানা বলা যায়। কারণ, এখানে এক হাজারের বেশি যন্ত্রাংশ ও বিআইডব্লিউ অবস্থায় (রং করার আগের অবস্থা) কাঠামো আমদানি করে গাড়ি সংযোজন করা হচ্ছে।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, তাদের কারখানায় বছরে তিন হাজার ক্রেটা গাড়ি উৎপাদন করা সম্ভব হবে। পরবর্তী সময়ে উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। এ ছাড়া ইতিমধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে একাধিক সেলস, সার্ভিস ও স্পেয়ার পার্টস কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। অন্য প্রধান শহরগুলোতেও দ্রুত নতুন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।

এ ছাড়া আগামী কয়েক বছরের মধ্যে হুন্দাইয়ের পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন ফেয়ার টেকনোলজির কর্মকর্তারা।
ফেয়ার গ্রুপ বাংলাদেশে স্যামসাং স্মার্টফোন ও নানা রকম কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন করে। এ ছাড়া সারা দেশে খুচরা বিক্রি, বিক্রয়োত্তর সেবা ও বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনা করছে তারা।